বিদেশিদের কাছে নালিশ করে দেশকে খাটো করবেন না: তথ্যমন্ত্রী
অমর একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ- সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:০৫
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেশিয়াম চত্বরে শুরু হয়েছে অমর একুশের বইমেলা। সোমবার বিকেল ৫টায় বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা এই বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এই মেলার আয়োজন করেছে। বইমেলা মঞ্চে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
এ সময় তিনি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে নালিশ করে দেশ ও জাতিকে খাটো না করার জন্য বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানান।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারত গত ১১ বছরে, যদি নেতিবাচক রাজনীতি না থাকত। গতকাল দেখতে পেলাম বিএনপির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত-কূটনীতিকদের সঙ্গে বসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তাদের কাছে নালিশ করা হয়েছে। কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে এই যে ধরনা দেওয়া, এতে দেশ এবং জাতিকে অপমান করা হয়। এ সময় কোনো নালিশ থাকলে দেশের জনগণ কিংবা নির্বাচন কমিশন, এমনকি প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার জন্য বিএনপিকে অনুরোধ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তথ্যপ্রযুক্তির ভালো ও মন্দ দিক তুলে ধরে বলেন, স্মার্টফোন নয়, সন্তানকে স্মার্ট করতে হাতে তুলে দিন একটি ভালো বই। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, শিক্ষা স্বাস্থ্যবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ সভাপতি শাহ আলম নিপু প্রমুখ।
আগের মতো এবারের বইমেলায়ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা, আবৃত্তি, বিতর্ক ও শিশু উৎসব, আন্তর্জাতিক লেখক সম্মিলন ও পাঠক সমাবেশ, পেশাজীবী ও সাংবাদিক সমাবেশ, সাহিত্য আড্ডা, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। মঞ্চে আয়োজন করা হবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান, লোক ও মরমি সংগীত, নাটক মঞ্চায়ন, জাদু প্রদর্শনী ইত্যাদি। কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেওয়া হবে একুশে স্মারক সম্মাননা ও সাহিত্য পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ প্রকাশক ও লেখকদের জন্যও থাকবে সম্মাননা পুরস্কার।
সিসিটিভির আওতায় থাকবে পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণ। এ ছাড়াও থাকবে ফ্রি ওয়াইফাইসহ সেলফি কর্নার। ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। জিমনেশিয়াম চত্বরে ১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ বর্গফুট আয়তনের মধ্যে ঢাকার ১১৮টি ও চট্টগ্রামের ৪০টি প্রকাশককে ২০৫টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
