বনায়নে বদলে যাবে পাহাড়
পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণের কাজ করছেন নারী ও পুরুষ -সমকাল
মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২২ | ২৩:৩৭
রাঙ্গুনিয়ায় উঁচুনিচু পাহাড়ে চলছে নানা প্রজাতির চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ। অনেকটা ফাঁকা পাহাড়ে ঔষধি ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণের কাজ করছেন তিন শতাধিক নারী ও পুরুষ।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বন ও জীবিকা প্রকল্পের (সুফল) আওতায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চারা রোপণের কাজ চলেছে। এতে বন বিভাগের বনায়ন যেমন বাড়ছে তেমনি দখল হয়ে যাওয়া বাগান উদ্ধার হচ্ছে। অপরদিকে দরিদ্র ও অসহায় কিছু মানুষ নিজেদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন এ প্রকল্পের মাধ্যমে। বাগান টেকসই করার জন্য আহসানিয়া মিশন নামে এসজিও সংগঠন মাঠে কাজ করছে। গত ১ জুন থেকে শুরু হয় চারা রোপণ।
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুদ কবির জানান, এ রেঞ্জের কোদালা, নারিশ্চা, চিরিঙ্গা ও পোমরা বিটে ৩৩৮ হেক্টর জমিতে নানা প্রজাতির ৮ লাখ ৪৫ হাজার চারা রোপণের কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৯২ হাজার চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুতই শেষ হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যেসব প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হচ্ছে এর মধ্যে ড্যাকি জাম, পূতি জাম, কড়ই, নিম, আকাশমণি, গর্জন, কাঠবাদাম, বস বাদাম, লটকন, শিমুল, বহেড়া, গামার, অর্জুন, কৃষ্ণচূড়া, কাজুবাদাম, তুন, রাধাচূড়া, হরীতকী, পলাশ, বৈলাল, তৈলসুর, বধ নারিকেল, পারুল, নার্গেশরি, ছিকরামি, তুলা, রেইনট্রি, লোহা, পিতরাজ, সনালু, মিঝিরি, ছারিয়ান গাছের চারা রয়েছে।
সুফল প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে বাগানের আশপাশ থেকে হতদরিদ্রদের নিয়ে টেকসই বন-জীবিকার জন্য সমিতি করা হয়। তাঁদের থেকে বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্ণয় করে তাঁদের নিয়ে সমিতি করা হয়। এ সমিতিকে বিশ্বব্যাংক অর্থনৈতিক বরাদ্দ দেয়। সেখান থেকে বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের ঋণ দেওয়া হয়। প্রতিটি বিটে ১৮ জন করে পাহারা দেবেন। সরকারিভাবে সম্মানী পাবেন প্রতি পাহারাদার।
নারিশ্চা বিটে কাজ করা আলমাস খাতুন বলেন, তাঁর বাড়ি উপজেলার পদুয়ার রাজার হাট এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন সুফল প্রকল্পে নার্সারির কাজ করছেন। এ বিটে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ নারী চারা রোপণ ও আনুষঙ্গিক কাজ করছেন। চারা রোপণের কাজে ৬০ থেকে ৭০ জন পুরুষও কাজ করছেন। তাঁরা প্রতিদিন যাতায়াত ভাড়াসহ ৫০০ টাকা করে পান।
নারিশ্চা বিট কর্মকর্তা মিন্টু কুমার দে জানান, এ বিটে ইতোমধ্যে সুফল প্রকল্পের ৭০ শতাংশ চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের কারণে বদলে যাচ্ছে এলাকার সবুজ বনায়ন। উপকৃত হচ্ছেন বনায়নের পার্শ্ববর্তী হতদরিদ্ররা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বনায়নের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যেন তাঁরা জীবিকার চাহিদা মেটাতে বনের ক্ষতি না করেন এবং বন সংরক্ষণের কাজে বেশি মনোযোগী হন। তিনি বলেন, পাহারাদার সমিতির মাধ্যমে বনায়নের ১০ শতাংশ সুবিধাও পাবেন।
- বিষয় :
- বনায়ন
- পাহাড়
- রাঙ্গুনিয়া
