ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চসিকের গৃহকর নিয়ে মেয়র ও নগরবাসী মুখোমুখি

চসিকের গৃহকর নিয়ে মেয়র ও নগরবাসী মুখোমুখি
×

টাইগারপাসের চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাইশ মহল্লা কমিটির নেতারা - সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:৩৪ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:৩৭

চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছ থেকে বর্ধিত হারে গৃহকর আদায় করা হলেও সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দাবি করেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পৌরকর বৃদ্ধি করেননি তিনি। একটি মহল হীনস্বার্থে বিষয়টি নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। বুধবার নগরের টাইগারপাস সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বাইশ মহল্লা কমিটির নেতারা সাক্ষাতে গেলে এসব কথা বলেন সিটি মেয়র।

তবে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নেতাদের দাবি- মেয়রের বক্তব্য খুবই চাতুর্যপূর্ণ এবং তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের বরখেলাপ। তিনি আবেদন করে আগের মেয়রের বাড়ানো কর স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। তাঁর মতো সজ্জন রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

বাইশ মহল্লা কমিটির সভাপতি মো. ইউসুফ সর্দ্দারের নেতৃত্বে নগরের মহল্লা সর্দাররা মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা বর্ধিত গৃহকর নিয়ে নগরবাসীর নাভিশ্বাসের কথা জানান। জবাবে মেয়র রেজাউল করিম বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী পৌরকর বৃদ্ধি করা হয়নি। তবে ২০১৭ সালে ধার্য করে যেসব অসংগতি আছে, তা দূরে আপিল বোর্ড করা হয়েছে। আপিলের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া এসব অসংগতি দূর সম্ভব নয়।

এ সময় মেয়রের উদ্দেশে ইউসুফ সর্দ্দার বলেন, আপিল কার্যক্রম নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ আছে। বিষয়টি সুরাহার আগে এসব অনিয়ম দূর করা দরকার। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, গৃহকর মূল্যায়ন ও আপিল নিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে আমার ব্যক্তিগত সচিব বা রাজস্ব কর্মকর্তাকে যাতে জানাতে পারে, সে জন্য স্থানীয় সব পত্রিকায় নম্বরসহ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। অভিযোগ নিয়ে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। আবার আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তে করদাতা অসন্তুষ্ট হলে তাও বিবেচনা করা হবে।

মেয়রের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে করদাতা সুরক্ষা পরিষদের মুখপাত্র হাসান মারুফ রুমী সমকালকে বলেন, মেয়রের বক্তব্য খুবই চাতুর্যপূর্ণ। তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, আগের মেয়র কর যেটি বাড়িয়েছেন, তা থেকে তিনি আর বাড়াননি। কিন্তু নগরবাসীর আন্দোলনের কারণে আগের মেয়রের যে বর্ধিত কর আদায় স্থগিত ছিল, সেটি তিনি ঠিকই আবেদন করে প্রত্যাহার করেছেন। এটি স্পষ্ট, তাঁর নির্বাচনী ওয়াদার বরখেলাপ। এমন বক্তব্যের কারণে তাঁর সম্পর্কে মানুষের ধারণা পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, গৃহকর বাড়বে না, আমরা এটি বলছি না। আমাদের দাবি, আগের মেয়ররা যেভাবে বর্গফুটের ভিত্তিতে কর আদায় করেছেন, সেভাবে করতে। ভাড়ার ভিত্তিতে কর আদায় করায় ১৫ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

২০১৬ সালে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেন তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সে সময় এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ নগরবাসী। পরে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন বর্তমান মেয়র রেজাউল করিম। ১৮ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে করা পঞ্চবার্ষিকী পুনর্মূল্যায়ন অনুযায়ী গৃহকর দাঁড়ায় ৮৫১ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় ৭১৯ কোটি টাকা বেশি।

সিটি মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর বাইশ মহল্লা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শওকত হোসাইন কামরুল, সাবেক কমিশনার আলী বপ, সালাউদ্দিন ইবনে আহমেদ, মোহাম্মদ তারেক, জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×