ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম

কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম
×

নগরীর সদরঘাটে আয়োজিত মানবন্ধন - সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২২ | ০৮:৩২ | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২২ | ০৮:৪১

কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন। সোমবার নগরীর সদরঘাটে আয়োজিত মানবন্ধনে এ সময় বেঁধে দেন তারা। 

এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্ণফুলী নদী পাড়ের দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। নদী কমিশনের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

একই দাবিতে আগামী ৯ নভেম্বর বুধবার দুই শতাধিক সাম্পান নিয়ে ভোর ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চাক্তাই খালের মোহনায় নদীতে অনশন ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রামের পাঁচটি সংগঠন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালের মে মাসে কর্ণফুলী তীরের দুই হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে হাইকোর্ট রায় দেন। সাড়ে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এই রায় নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। হালদা নদীর মোহনা থেকে বঙ্গোপসাগরে কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় তিন হাজারের বেশি অবৈধ দখলদার নদী দখল করে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভূমিদস্যুরা এর সঙ্গে জড়িত। এইসব অসাধু চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করার কারণেই এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছে না। কিন্তু এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই কর্ণফুলী তার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ হারাবে। ভূমিদস্যুদের দাপটে প্রশাসনের নিরবতা না ভাঙলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যাবে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন।

মানববন্ধনে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, ‌'নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য আমাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের রাস্তায় আন্দোলন করার কথা ছিল। কিন্তু তারা কোথাও কর্ণফুলী রক্ষার কথা বলেন না।'

তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নদীর উভয় তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীকে ২০০০ সালের পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, প্রশাসনের দেখেও না দেখা নীতির কারণে ভূমিদস্যুরা দখল করে কর্ণফুলীকে পঙ্গু করে ফেলেছে। চট্টগ্রাম নগরীর ৭০ লাখ মানুষের বর্জ্য ও পলিথিনের দূষণে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কর্ণফুলীর। যে কারণে দেশের অন্যতম খরস্রোতা এই নদী এখন মাছ ও জলজপ্রাণী শূন্য হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য ও লেখক দিলরুবা খানমের সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট পরিবেশ সংগঠক লেখক নেছার আহমেদ খান, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি জাফর আহমদ, সহসভাপতি লোকমান দয়াল, সদস্য মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট সংগঠক আরমান হায়দার ও সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ।

আরও পড়ুন

×