ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতের ৬৭৭ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

কক্সবাজার সৈকতের ৬৭৭ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, হাইকোর্টে প্রতিবেদন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২২ | ০২:০৫ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২২ | ০৬:২০

কক্সবাজার সুমদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে ২৬০ এবং সুগন্ধা পয়েন্টে ৪১৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদের এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন তার আইনজীবী। পরে ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে কক্সবাজারের ডিসিকে আদালত অবমাননার দায় থেকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত রুলও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

আদালতে ডিসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির। অন্যদিকে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দিয়ে ২০১১ সালের ৭ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের আলোকে কয়েক দফা নির্দেশনা দিলেও তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সমুদ্র সৈকতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বলা হয়েছিল। এরপর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ডিসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের ডিসিকে তলব করেন হাইকোর্ট । পাশাপাশি ডিসিসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। তারা হলেন- কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফোরকান আহমেদ, টাউন প্ল্যানার তানভির হাসান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ও পৌরসভার মেয়র মজিবর রহমান। পরে ১৯ অক্টোবর আদালতের নির্দেশ অনুসারে ব্যাখ্যা দিতে হাজির হন কক্সবাজারের ডিসি মামুনুর রশীদ। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আদালতের আদেশ পালন না করলে আপনার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। আমরা পত্রিকা টিভিতে দেখি কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষায় আপনার ভূমিকা শুধু জিরো নয় বরং নেগেটিভ।

এরপর মামুনুর রশীদ আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তখন আদালত অবমাননার অভিযোগ হতে ডিসিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। এছাড়া ৩১ অক্টোবরের পর থেকে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর পরপরই কক্সবাজারের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রতিবেদন দাখিল করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন

×