সিলেটে পিপিআরসি-ইউএনএফপিএ গোলটেবিল বৈঠক
মাতৃমৃত্যু রোধে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
সিলেট সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা - সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৫:৪৬ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৬:২০
সিলেটে মাতৃমৃত্যু হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে সচেতনতা বিষয়ে পিপিআরসি (পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার) ও ইউএনএফপিএর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, মাতৃমৃত্যু রোধে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। পাশাপাশি জরুরি গণসচেতনতা। সচেতনতা শুধু জনগণকে করলে হবে না, যাঁরা নীতিনির্ধারক তাঁদেরও সচেতন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আমরা অনেকে দায়সারা কাজ করেই শেষ করি। এর ফলাফল স্থায়ী হয় না। মাতৃমৃত্যু হয়তো শূন্যের কোটায় আনা যাবে না। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না। আমাদের দেশে প্রতি বছর ৩৩ লাখ মা অন্তঃসত্ত্বা হন। এত সংখ্যক মা'কে সেবা দেওয়ার পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। যে পরিবেশ আছে তাতে আরও যত্নবান হতে হবে।
মঙ্গলবার সিলেট সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক সমকাল।
গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও বক্তব্য দেন পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ, ইউএনএফপিএ’র হেলথ সিস্টেমস স্পেশালিস্ট ডা. দেওয়ান মো. ইমদাদুল হক ও সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির এবং কি নোট উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সানজিদা আখতার। কি নোটে তিনি সিলেটসহ সারাদেশের মাতৃমৃত্যু হার, বর্তমান অবস্থা ও কারণ এবং উত্তরণের উপায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সমাজের বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রতিনিধিদের মধ্যে গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সাবেক পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. শামসুন্নাহার হেনা, সিলেটের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল সমিতির সভাপতি ডা. নাসিম হোসাইন, সুজন-সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি আল আজাদ, সিলেট প্রেস ক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. মৃগেন কুমার দাশ চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ডা. নাহিদ পারভীন, ডা. মশিউর রহমান চৌধুরী, ডা. ফাহমি আক্তার, পুণ্যভূমি সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ, মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার, ডা. হিজবুল্লাহ, শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ভূইয়া, ব্র্যাকের অনিক আহমদ অপু, মেরিস্টোপের মোহন লাল দাশ প্রমুখ।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাঠ পর্যায়ে কোথায় ফাঁকফোকর আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। ডেলিভারি করতে হলেও বড় ধরনের চিন্তাভাবনা দরকার। স্বাস্থ্য খাতে নানা অসংগতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে। চিকিৎসক, সমাজকর্মী, এনজিও, রাজনীতিকসহ সবার অংশগ্রহণে মাতৃমৃত্যু হার কমাতে সহায়তা করে। সেজন্য সবার মধ্যে সচেতনা তৈরি করতে হবে।
সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা কাগজপত্রে অনেক হিসাব-নিকাশ দেখাই। বাস্তবের সঙ্গে তার মিল নেই। মাঠ পর্যায়ের কাজের তদারকি হয় না। অনেক হাসপাতাল আছে, যারা সিজার করতে ব্যস্ত। অনেকে ক্লিনিক ও হাসপাতালে যেতে ভয় পায়। সিলেট নগরীতে মাতৃমৃত্যু হার কমাতে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান মেয়র আরিফুল হক।
পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। বিশেষ করে একজন মা যখন মারা যান তখন তাঁর পরিবারের অবস্থা কী হয় আমরা বুঝতে পারি। সরকারের কাছ থেকে আমরা নিতে চাই, দিতেও চাই।
ইউএনএফপিএ’র হেলথ সিস্টেমস স্পেশালিস্ট ডা. দেওয়ান মো. ইমদাদুল হক বলেন, দেশের ৪২৫ উপজেলায় মিডওয়াইফারি সার্ভিস চালু আছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যেই তা করা হয়েছে।
