সরকারি জমিতে কয়েকশ দোকান, ভাড়া তোলেন চেয়ারম্যান
বাজারের অনেক জায়গা দখল করে নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা।
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ০০:৪৩
বাঞ্ছারামপুরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাঠ ও বাজারের প্রায় সাড়ে তিন একর জায়গায় অবৈধভাবে কয়েকশ দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ তাঁর লোকজন দিয়ে এই টাকা আদায় করছেন। এক বছর ধরে চলে আসছে চেয়ারম্যানের এ কার্যক্রম। তবে রহস্যজনক কারণে দোকান উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়নি ভূমি কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনারামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর বাজার প্রায় শত বছরের পুরোনো। প্রতি বছর সরকারিভাবে ইজারা হয়ে আসছে এটি। কিন্তু এ বছর ইজারা না হওয়ায় খাস কালেকশন হচ্ছে। সাবেক ২৩৬ থেকে ২৪০ দাগে ১০০ শতাংশ ও হালে বিএস ৫০০৬ থেকে ৫০১৮ দাগে বাজারের ৭০ শতাংশ। সাবেক ২১৭ দাগে ১৭৭ শতাংশ ও হালে বিএস ৫০০০ দাগে ১৫২ শতাংশ ভূমি অফিসের ও সাবেক ২১৮ দাগে ও বিএস ৪৯৭ দাগে ১০১ শতাংশ জায়গা রয়েছে। বাজারের অনেক জায়গা দখল করে নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। ভূমি অফিসের অনেক জায়গা কয়জন ব্যক্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে।
সরেজমিন সোনারামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এলাকায় দেখা গেছে, ভূমি অফিসের পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বিভিন্ন আধা পাকা ঘর ও অস্থায়ী শতাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে চালের দোকান, কাঠের বাজার, কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, মুদি দোকান ও সারের দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক হিসাবে ইজারাদার টাকা আদায় করছেন। প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার হাটের দিনে দুই শতাধিক দোকান বসে। খেলার মাঠে অর্ধশতাধিক কাঠ ও বাঁশের দোকান রয়েছে। সেগুলো থেকেও টাকা আদায় করেন ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিরা। ভূমি অফিসের সিঁড়িতেই দোকান সাজিয়ে ব্যবসা করছেন দোকানদাররা। পশ্চিম পাশে রয়েছে কাঠের বাজার। এখানে ২০-২২টি দোকান রয়েছে।
সোনারামপুর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, বাজার খাস কালেকশন হলেও টাকা আদায় করেন ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন। সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করা হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না ভূমি কর্মকর্তারা।
মুদি দোকানদার সুমন মিয়া বলেন, 'তিন বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। প্রতিদিন ইজারাদারকে ২০ টাকা করে দিতে হয়। কাচারির (ভূমি অফিস) জায়গায় প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে।'
কাঠ ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার অভিযোগ, প্রতি হাটের দিন তাঁদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। ৪০টির মতো কাঠের দোকান রয়েছে।
কাঁচা তরকারি দোকানদার মোবারক হোসেন বলেন, ভূমি অফিসের জায়গায় দোকানদারি করছি। ইজারাদার এখানে আমাকে জায়গা দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন ২০ টাকা করে দিতে হয়। শতাধিক দোকান রয়েছে। অনেক দোকানের ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে প্রতিদিন দিতে হচ্ছে ইজারাদারকে। এটা বাজারের জায়গা কিনা, বলতে পারব না।
জায়গা দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে কথা হয় সোনারামপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এমরান হোসেনের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, তিনি এখানে এসেছেন এক মাস হলো। বাজার থেকে কোনো ইজারা ওঠাননি তিনি। আগের নায়েব লোকমান এ বিষয়ে বলতে পারবেন। বাজারের জায়গা নেই, তাই এখানে দোকান বসাচ্ছেন স্থানীয়রা। জায়গা নেই কী করা যাবে? মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু বলছেন না বলে দাবি তাঁর। কারণ ব্যবসায়ীরা তো রাস্তায় বসতে পারেন না। তাঁর অফিসের দরজা বন্ধ করেও দোকান বসে হাটের দিন, কী করবেন এলাকার লোকজন তাঁরা।
সাবেক ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বর্তমানে কৃষ্ণনগর ভূমি অফিসে কর্মরত। তিনি জানান, বাজারটি খাস কালেকশন হলেও ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর লোকজন দিয়ে টাকা আদায় করেন। তাঁর বদলির আগে ১ লাখ টাকা জমা করেছেন। চেয়ারম্যান টাকা দিলে কয়েক মাস পর পর টাকা জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদের সঙ্গে। তাঁর দাবি, অনেক টাকা মূল্য উঠেছে গত বছর। তাই এ বছর কেউ বাজার ডাক দেয়নি। তিনি বাজার থেকে কোনো টাকা আদায় করেন না। নায়েব তাঁর কাছে সহযোগিতা চাওয়ায় লোকজন দিয়ে টাকা উঠিয়ে দেন। বাজারের জায়গা না থাকায় ভূমি অফিসের ও মাঠের জায়গায় বাজার বসাতে হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কাজী আতিকুর রহমান জানান, ভূমি অফিসের জায়গায় যেসব দোকান ও অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। তারা না গেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
- বিষয় :
- বাঞ্ছারামপুর
- ভূমি অফিস
- ভাড়া আদায়
