ইভিএম বিড়ম্বনায় ভোটাররা
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ০০:০৫ | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ০০:০৫
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ত্রুটির কারণে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন ভোটাররা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুথে প্রবেশ করেও ভোট দিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন তারা। বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্র থেকে এ অভিযোগ করেছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড চব্বিশ হাজারি কেন্দ্রে থেকে অভিযোগ করেন ভোটার মহিদুল হাসান। তিনি বলেন, সকাল থেকে ইভিএমে সমস্যার কারণে অনেকে ভোট দিতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।
নগরীর মাস্টার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আইরিন তাসলিমা জানান, দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কখন ভোট দিতে পারব জানিনা। একেকজনের ভোট দিতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় নলকূপের গায়ে আঙ্গুল ঘষে ভোট দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইভিএমের যে অবস্থা, ভোট তো নয় যেন হয়রানি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলে না, হ্যাঙ্গ করে। এসব মেশিনে ভোট নেওয়ার কোন মানে হয়না।
এর আগে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দিতে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি আলমনগর কলেজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসে ইভিএম ত্রুটির কারণে প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন। এরপর, ৯টা ২১ মিনিটের দিকে ভোট দেন।
এই পরিস্থিতিকে তিনি নির্বাচন কমিশনের 'ব্যর্থতা' হিসেবে আখ্যা দেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনে ৩৩টি ওয়ার্ডের ২২৯টি কেন্দ্রের ১৩৪৯টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৭০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছিলেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট এবং বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা পেয়েছিলেন ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট।
- বিষয় :
- রংপুর সিটি নির্বাচন
- ইভিএমে ত্রুটি
- বিড়ম্বনা