লালপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে প্লাবিত কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি
পানিবন্দি চার শতাধিক পরিবার
চাকলা বিনোদপুর গ্রামের উল্লেখযোগ্য ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। ছবি: আশিকুর রহমান/সমকাল
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৭
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানি বেড়েছে। পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত চার শতাধিক পরিবার।
শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৬ মিটার। বিপৎসীমা হলো ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭৪ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে পানির স্তর ছিল ১৩ দশমিক ০৫ মিটার।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, পদ্মা নদীতে পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে নদীতে পানি বৃদ্ধি স্থিতিশীল আছে।
সরেজমিন পদ্মার চর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত দুই দিনে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর, চাকলা বিনোদপুর, দিয়াড় শংকরপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর ও মোহরকয়া আংশিকসহ ১৮টি চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চার শতাধিক পরিবার। চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্য-সংকটে পড়েছেন গরু-মহিষের খামারিরা।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের কৃষক জমির আলী জানান, পদ্মার ইলিশমারি চরে ৩ লাখ টাকা খরচ করে ১০ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছিলেন তিনি। কলার গাছগুলোতে কাঁদি আসতে শুরু করেছিল। হঠাৎ পদ্মায় পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে কলার জমি।
কৃষক মুনতাজ আলী ও আলাল আলী জানান, চরে তাঁদের পটল, মুলা ও বেগুনের আবাদ তলিয়ে গেছে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, গত দুই দিন আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাঞ্চলের ফসলি খেত। নদীর পানি বৃদ্ধিতে নওশারা সুলতানপুর, দিয়াড় শংকরপুর, চাকলা বিনোদপুর ও রসুলপুর চরে চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে যাবে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, পদ্মায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় চরের ফসলি জমিগুলো ডুবে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবির হোসেন বলেন, সার্বিক খোঁজখবর রাখার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নওশারা সুলতানপুর চরের ৩০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। চরের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।