তিন টাকা জরিমানা, নম্বরপত্র তুলতে গিয়ে বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থী
ফাইল ছবি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫৮
তিন টাকা জরিমানা পরিশোধ না করায় নম্বরপত্র তুলতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। তিন টাকা বকেয়া থাকায় আটকে যায় তার নম্বরপত্র উত্তোলন। ব্যাংকে ওই টাকা জমা দেওয়ার পর মিলেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর। গত ৮ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন শিক্ষার্থী স্পেল চাকমা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গ্রাজুয়েশন বা নির্দিষ্ট সেমিস্টারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী সব দাপ্তরিক ও প্রতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ক্লিয়ারেন্স ফরম নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্বাক্ষর নিতে যান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অ্যাকাউন্টে তিন টাকা বকেয়া দেখানো হয়। বকেয়ার পরিমাণ মাত্র তিন টাকা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যাংকের নির্ধারিত খাত ছাড়া এই সামান্য অর্থ অনলাইনে বা সরাসরি জমা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। শেষ পর্যন্ত জটিলতা কাটাতে ব্যাংকে ওই তিন টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করেন তিনি। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর কাঙ্ক্ষিত সাইন বা ক্লিয়ারেন্সের অনুমোদন পান ওই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ২০২২ সালে লাইব্রেরি থেকে পড়ার জন্য একটি বই নিয়েছিলেন তিনি। যেটি নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর জমা দেন। পরে লাইব্রেরি থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে গেলে তিনি জানতে পারেন তার তিন টাকা জরিমানা হয়েছে। মাত্র তিন টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন তিনি।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আধুনিক ডিজিটাল হিসাব ব্যবস্থাপনায় এই ধরনের ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক কড়াকড়ির এক অদ্ভুত উদাহরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান সাজ্জাদ ওয়াহিদ বলেন, পরীক্ষা শেষে নম্বরপত্র বা সনদপত্র তুলতে গেলে বিভিন্ন দপ্তরের ক্লিয়ারেন্স লাগে। লাইব্রেরি থেকে পড়ার জন্য একটি বই নিয়েছিলেন ওই শিক্ষার্থী। নির্ধারিত সময়ে বই ফেরত না দেওয়ায় তার তিন টাকা জরিমানা হয়। তিনি হয়তো বিষয়টি জানতেন না। ক্লিয়ারেন্স নিতে এসে বিষয়টি নজরে আসে। পরে তিন টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ওই শিক্ষার্থী সনদপত্র তুলে নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মনির মোরশেদ বলেন, হিসাবের স্বচ্ছতা ও দাপ্তরিক নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় প্রটোকল মেনে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।
- বিষয় :
- জরিমানা
- শিক্ষার্থী
- বিড়ম্বনা