ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পা ধরতে বাধ্য করা সেই বিচারকের অডিও ফাঁস

পা ধরতে বাধ্য করা সেই বিচারকের অডিও ফাঁস
×

ফাইল ছবি

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৩ | ১৫:৩৮ | আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৩ | ১৫:৩৮

বগুড়ায় আলোচিত সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই অভিভাবককে বিচারকের পা ধরতে বাধ্য করার ঘটনার একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘জজ মানে জানিস তুই? জজ শব্দ বানান করতে পারবি তুই? 

যদিও ঘটনার কয়েকদিন পর ওই বিচারক এক বিবৃতিতে পা ধরা এবং অভিভাকদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এই অডিও প্রকাশের পর এলাকায় তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

গত ২১ মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনের কক্ষে দুই ছাত্রীর অভিভাবককে পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। এরপরই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিনের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।

এর কয়েকদিন পর বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন একটি লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সব দোষ অস্বীকার করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ভর্তির পর থেকে তার মেয়েকে চারমাস জজের মেয়ে বলে নানাভাবে অপদস্থ করে সহপাঠীরা।

তিনি দাবি করেন, তার মেয়ে সহপাঠীদের দ্বারা র‌্যাগিং ও বুলিংয়ের শিকার। এছাড়া তিনি অভিভাবকদের হুমকি দেননি।

তবে ভাইরাল হওয়া অডিওতে বিচারককে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শোনা যায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন। একপর্যায়ে, এক শিক্ষার্থীকে থাপড় মেরে দাঁত ফেলে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, জজ মানে জানিস তুই, জজ শব্দ বানান করতে পারবি তুই? বানান করে লিখে দেখা।  

তার আক্রমণাত্মক ব্যবহারে ভয় পান অভিভাবকরা। এসময় এক অভিভাবক বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ করতে শোনা যায়। কিন্তু সে সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন বিচারক।

সরকারি স্কুল সম্পর্কেও বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়  বিচারককে। সেসময় তার সঙ্গে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা এ বিষয়টির পরিণাম সম্পর্কে ছাত্রী ও অভিভাবকদের সতর্ক করতে থাকেন। জজের মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার বদলে এমন ঘটনায় আক্ষেপও প্রকাশ করেন শিক্ষকদের কয়েকজন।

এদিকে বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিনের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডের কোনো মিল না থাকায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।  

এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্ত চলছে। তদন্তে অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রসঙ্গত, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী গত ২০ মার্চ বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিনের মেয়ের শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে ঝাড়ু দিতে অস্বীকৃতি জানালে সহপাঠীদের সঙ্গে তর্ক হয়। এর একপর্যায়ে সে নিজেকে জজের মেয়ে পরিচয় দেয়। এরপর রাতে সহপাঠীদের ‘বস্তির মেয়ে’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয় সে।  

পোস্টে সে লেখে, ‘তোরা বস্তির মেয়ে। আমার মা জজ। তোদের মায়েদের বল আমার মায়ের মতো জজ হতে।’ 

ওই পোস্টে চার সহপাঠী জবাব দেয়। এ নিয়ে বিচারক রুবাইয়া ইয়াছমিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনকে ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডাকতে বলেন।  

পরদিন ২১ মার্চ প্রধান শিক্ষকের ডাকে ওই চার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় বিচারক রুবাইয়া ইয়াছমিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গালাগালি করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন তিনি। এ সময় দুজন অভিভাবক ওই বিচারকের পা ধরে ক্ষমা চান।


আরও পড়ুন

×