পরিবার জানত বিদ্যালয়ে, মৃত্যু রিসোর্টের পুকুরে
কালিয়াকৈর ও টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৪ মে ২০২৩ | ০৪:৪৪
মৃত মো. হামিম হক (১৭) ও আব্দুল্লাহ আল নোমান (১৭) টঙ্গীর সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাসা থেকে বের হয়। দুপুরে মৃত্যুর সংবাদ পান।
ওই দু’জনের সঙ্গে ছিল সহপাঠী তাহসিন রহমান। তার মা শিরিন বেগম বুধবার রাতে বলেন, ‘আমার ছেলে দু’জনকে বাঁচাতে পানিতে নেমেছিল। সে এখন কথা বলতে পারছে না।’
পরে তাহসিনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ঘটনার বর্ণনা দেয় সে। তাহসিন বলে, ‘আমরা চারজন ওখানে ঘুরতে যাই। প্রথমে আমি পুকুরে নেমে মাঝখানে চলে যাই। পরে নোমান ও হামিম নামে। নোমান সাঁতার জানে না। সে পুকুরের মাঝখানে গিয়ে উঠতে পারছিল না। হামিম তাকে বাঁচাতে যায়। আমি তাদের কাছে যাওয়ার আগেই দু’জন যায়।’
হামিম হক টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মধ্য আরিচপুর এলাকার আজিজুল হকের ছেলে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা।
আব্দুল্লাহ আল নোমান একই এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে। নোমানের মা জোসনা বেগম সন্ধ্যায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে নোমান মেজো। বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে পোশাক পরে বের হয়। দুপুরে তাঁরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শোনেন, নোমান, হামিমসহ কয়েকজন সেখানে যায়নি। ১টার দিকে পানিতে পড়ে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পান।
পরে দু’জনের মরদেহ পূর্ব আরিচপুর আনা হয়। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে সরকারবাড়ি কবরস্থানে নোমানের দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওয়াদুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জন্য খুবই দুঃখজনক। প্রতিভাবান ছেলে দুটির প্রাণ অকালে ঝরে গেল!’
ওই দু’জনের বাবা তাঁকে নিশ্চিত করেছিলেন, সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছিল হামিম ও নোমান। পরে জানতে পারেন, এলাকার বন্ধুরা ওই রিসোর্টে পিকনিকের আয়োজন করেছিল। এতে যোগ দিয়েছিল তারা।
জানা গেছে, রিসোর্টের কর্মচারী ও সহপাঠীরা হামিম ও নোমানকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে ওই দুই কিশোর রিসোর্টে ঘুরতে এসেছিল। পুকুরে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- রিসোর্ট
- পানিতে ডুবে মৃত্যু
- ঢাকা
- গাজীপুর
