ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চুকনগর গণহত্যা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু

চুকনগর গণহত্যা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু
×

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৩ | ১৫:০৯ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৩ | ১৫:০৯

চুকনগর গণহত্যার ওপর গবেষণা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন অন চুকনগর জেনোসাইড অব ১৯৭১’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ মে দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঘটনাস্থলে শুরু হয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রম। এর আগে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সম্মক ধারণা দিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়। 

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন আমরা একাত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ (সিজিএস) যৌথভাবে এ গবেষণা চালাচ্ছে। আর চুকনগর কলেজের গণহত্যা মিলনায়তনে কর্মশালা আয়োজন করা হয় সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্সের (সিসিডিএ) সহযোগিতায় চুকনগর গণহত্যা ’৭১ স্মৃতিরক্ষা পরিষদ, সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ এবং উলসির অর্থায়নে।

কর্মশালার উদ্বোধক আমরা একাত্তরের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজী বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী পরিচালিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে হলে বিশ্বমন্ডলে আইন, ন্যায় ও যুক্তিসম্মত প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ গবেষণা ও নথিপত্র। এ উদ্দেশ্যেই পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সংঘটিত গণহত্যার ওপর গবেষণা করার পরিকল্পনা নিয়েছে আমরা একাত্তর।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা একাত্তর দেশ-বিদেশে বাংলাদেশ জেনোসাইডের বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে কাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে চুকনগর গণহত্যা ’৭১ স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ এ বি এম শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুক্তিযুদ্ধের এ অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে এ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে। বাংলাদেশ জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। 

আমরা একাত্তরের কেন্দ্রীয় সংগঠক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজা জেসমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চুকনগর কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম ব্রাউন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী গবেষক সালমা সোনিয়া, বটিয়াঘাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মহিউদ্দিন, সিসিডিএর উপ-নির্বাহী পরিচালক লুৎফর রহমান এবং আমরা একাত্তরের তরুণ সংগঠক অনুপম জামান বর্ণ। 

দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রভাষক, সাংবাদিক ও কলেজ শিক্ষার্থীসহ ১৪ জন অংশ নেন। তারাই মাঠ পর্যায়ে এ গবেষণার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। 

১৯৭১ সালের ২০ মে চুকনগরে বিশ্বের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাদেশের আটটি চিহ্নিত গণহত্যা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল চুকনগরেই চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে ১০ থেকে ১৪ হাজার লোককে হত্যা করা হয়। সেদিন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ভারতের শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার পথে চুকনগর ভদ্রা নদীর পারে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ২০ মে সকালে তারা দীর্ঘযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করছিলেন। সকাল ১১টার দিকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অতর্কিত হামলায় নিহত হন নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় ১২ হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন

×