ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

আইসোলেশনে কিশোরের মৃত্যুর পর রাতেই দাফন, ৪ বাড়ি লকডাউন

আইসোলেশনে কিশোরের মৃত্যুর পর রাতেই দাফন, ৪ বাড়ি লকডাউন
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০ | ১০:৪৯ | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০ | ১১:০৮

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মৃত সিয়াম নামে কিশোরের মরদেহ রাতেই দাফন করা হয়েছে। 

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হলে রাতেই তার মরদেহ জেলার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের দড়ি সোনাকানিয়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। 

সে ওই গ্রামের গফুর সরকারের ছেলে এবং স্থানীয় মহিষাবান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। 

গ্রামবাসীর বাধার আশঙ্কায় এরপর সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতিতে রাতেই মরদেহ দাফন করা হয়। 

করোনায় নয় সে ভুল চিকিৎসায় মারা যায় বলে চিকিৎসকরা জানান। 

এদিকে ওই কিশোরকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করার কারণে আশপাশের চারটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, কিশোরটি করোনায় নয় তাকে গ্রামে রেখে চিকিৎসা দেওয়ায় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মারা যেতে পারে। মৃত কিশোরটির নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। 

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, কিশোরটিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছিল। এজন্য তার বাড়িসহ আশপাশের বাড়িগুলো লকডাউনের জন্য প্রশাসনকে জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রওনক জাহান জানান,যেহেতু কিশোরটিকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল সেজন্য সেখানকার চিকিৎসদের মতামত নিয়ে ওই কিশোরের বাড়ির আশপাশের তিন বাড়ি লকডডাউন করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও জানান, সাতদিন আগে কিশোরটির পায়ে ব্যথা অনুভূত হয়। সে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিল। তবে তিনদিন আগে তার পা ফুলতে শুরু করে এবং গায়ে জ্বর আসে। মঙ্গলবার স্থানীয় এক চিকিৎসক তাকে স্যালাইন ও ওষুধ খেতে দেন। তারপর থেকে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বুধবার বেলা সোয়া ৩টায় তাকে যখন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আনা হয় তখন তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে অক্সিজেন দেওয়ার পর তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয় তবে জ্ঞান ফেরেনি। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ধারণা করছি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শিশুটির এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল। 

শিশুটিকে আইসোলেশনে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডা. কাজল বলেন, জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ওই কিশোর তার এলাকার বাসিন্দা। কিশোর সিয়াম কয়েকদিন আগে পায়ে ব্যথা পেলে বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। তার অবস্থা বুধবার অবনতি হলে তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় সে মারা যায়। সে করোনায় নয় স্বাভাবিক অবস্থায় মারা গেছে এটা গ্রামবাসী জানার পর কেউ দাফনে বাধা দেয়নি। রাত ১০টায় জানাজা ও দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয় এতে প্রায় ৪০ জন প্রতিবেশি উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাগবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু মুসা জানান, কিশোরের মরদেহ এলাকায় নিয়ে গেলে তিনি সেখানে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং মরদেহ দাফনের বন্দোবস্ত করেন।



আরও পড়ুন

×