ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

অসুস্থ মেয়েকে শিকলে বেঁধে রাখা ছবি ফেসবুকে, মুক্ত করল পুলিশ

অসুস্থ মেয়েকে শিকলে বেঁধে রাখা ছবি ফেসবুকে, মুক্ত করল পুলিশ
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১০:৩২

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের আওড়াপাড়া গ্রামের ফাহিমা বেগম (৩০) নামের মানসিকভাবে অসুস্থ এক নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় শুরু হয়। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় এলাকার শতশত মানুষ তাকে দেখতে যান। এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে মুক্ত করে। 

ফাহিমা আওড়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের মেয়ে। প্রশাসনের তরফ থেকে তার চিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সাতদিন আগে তার মা মেহেরুন নেছা তাকে ঘরের খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি জানার পর ওই বাড়িতে গিয়ে শিকলে বাঁধা নারীর ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ওই ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে শতশত মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করেন। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে মুক্ত করে দেন। 

ওই নারীর মা মেহেরুন নেছা জানান, ১৫ বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে মোস্তফা নামের এলাকার এক যুবকের বিয়ে হয়। ওই ঘরে দু’টি সন্তানও আছে। সাত বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের জের ধরে ফাহিমাকে তালাক দেন মোস্তফা। এরপর থেকে ফাহিমা বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তবে তার ২ সন্তান বাবার কাছে থাকে। তিন বছর আগে ফাহিমার বাবা মারা যান। সংসারের হাল ধরেন মেহেরুন নেছা। এক বছর আগে ফাহিমা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে মাঝেমধ্যে মারধর করতেন। প্রতিবেশীদেরও মারধর করতে পারে- এমন আশঙ্কায় এক সপ্তাহ আগে মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন তিনি। 

এদিকে বিষয়টি জানার পর স্থানীয় আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে শিকলমুক্ত করেন। চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ ও স্থানীয় মেম্বারকে পাঠান। সার্বিক বিষয় জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

শিবগঞ্জ থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, ওই নারীকে তার মা না বুঝে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন।। আর যাতে এ কাজ না করেন সে বিষয়ে তাকে সচেতন করা হয়েছে।

এ বিষয়টি শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, বিষয়টি জেনেছেন। চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

আরও পড়ুন

×