সামাজিক দূরত্বের নামে ‘চোর-পুলিশ’ খেলছেন অনেকে!
চীলমারী সোনালী ব্যাংকে রোববার মানুষের প্রচুর ভীড় ছিল- সমকাল
নাজমুল হুদা পারভেজ, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:৫৩ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:৫৬
বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এরইমধ্যে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ভয়ানক এই ভাইরাসে ব্যাপক বিস্তার রোধে অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন বন্ধসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অন্যতম। তবে দুঃখের কথা হলো, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন কাজ করলেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঠিক এমনই কুড়িগ্রামের চিলমারীতে হাট-বাজার, অলিতে- গলিতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, ব্যাংকে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন আইন মানতেই চাচ্ছে না। প্রশাসনের সঙ্গে এক ধরনের চোর-পুলিশ খেলা শুরু করেছেন তারা। সিভিল প্রশাসন, সেনা বাহিনী, পুলিশ তাদের তৎপরতা জনগণ কোন তোয়াক্কাই করছে না।
সরেজমিনে শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বন বিভাগ সংলগ্ন ডাওয়াইটারী মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রিতিমত হাট বসেছে। দোকান-হোটেল সব খোলা। শতাধিক লোকজন দল বেঁধে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছেন। সংবাদ পেয়ে, চিলমারী মডেল থানার টহল পুলিশ দল আসা মাত্রই লোকজন দ্রুত দোকান পাট বন্ধ করে সরে পড়েন। পুলিশ যতক্ষণ অবস্থান করছিল, ততক্ষণ কোন লোক সেখানে ছিল না। পুলিশ চলে যাওয়া মাত্রই আবার সেই সাবেক অবস্থা। একই দৃশ্য দেখা যায়, রমনা ইউনিয়নের টোলোর মোড়ে। প্রায় সব মোড়, অলি-গলিতে যেন চোর পুলিশ খেলা শুরু হয়েছে।
এদিকে রোববার বেলা ১১টার দিকে চিলমারী সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে টাকা তুলছেন। ব্যাংকের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য ব্যাংকের মেঝেতে গোল চিহ্ন এঁকে দিলেও, কেউ সেটা মানছেন না। শতশত মানুষ ব্যাংকের ভিতর প্রবেশ করায় সেখানে পা রাখারও জায়গা নেই।
এ বিষয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘কি করবো, কেউ তো কোন কথা শুনছে না। ফলে আমি এবং আমার সহকর্মীরাও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।’
অপরদিকে চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. জুবায়ের জানান, উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টটাইনে থাকা ৭ জনের মধ্যে দুই জনের অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় তাদের নমুনা বাড়িতে গিয়ে সংগ্রহ করে আনা হয়েছে। এখন নমুনা ৎগুলি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, নমুনা সংগ্রহকারী দু’জন রোগীর একজন ঢাকায় ছিল এবং অপরজন চিলমারীতে তার নিজ বাড়িতেই ছিলেন। পরীক্ষা না করে নিশ্চিতভাবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সার্বক্ষণিক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৭ জনকেই নজরদারীতে রাখা হয়েছে।
