ঝুঁকিতে নারায়ণগঞ্জ, আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে মৃত্যু ২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:১৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকার কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। এ পর্যন্ত জেলার ১১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে মারা গেছে ২ জন। ওই দুইজনের মৃত্যুর পর রোববার পর্যন্ত ২টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এ অবস্থায় শিল্পাঞ্চলখ্যাত পুরো নারায়ণগঞ্জে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ থেকে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আইইডিসিআর থেকে সরাসরি ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ২ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে।
ডা. ইমতিয়াজ আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত ১২৫ জন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। আইসোলেশনে রয়েছেন ২ জন। লকডাউন করা হয়েছে বন্দর উপজেলার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলবাগ ও নারায়ণগঞ্জ নগরেরপাইকপাড়া এলাকা। এছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক এলাকার দুই থেকে তিনশ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
গত ৩০ মার্চ বন্দর উপজেলার রসূলবাগ এলাকার পুতুল নামের এক নারীর জ্বর-সর্দি নিয়ে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে মৃত্যু হয়। ওই সময় ওই নারীর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রাখে আইইডিসিআর। পরে গত ২ মার্চ রিপোর্ট আসে তিনি কভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতেই রসূলবাগ এলাকা লকডাউন করে দেয় প্রশাসন। এছাড়া ওই নারীর সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন। এছাড়া ওই নারীর সংস্পর্শে এসে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়কে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
এদিকে গত শনিবার রাতে নগরের দেওভোগ গাঙ্গুলী বাড়ি এলাকার আবু সাঈদ নামে এক ব্যবসায়ী রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে করোনার উপসর্গে মারা যান। পরে তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর জানা যায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এরপর তার পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় মো. বাকি নামে তাবলীগ জামাত ফেরত এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় লামাপাড়া এলাকার ২০৮টি পরিবার এবং নগরের নন্দীপাড়া এলাকার এক দম্পতি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ওই এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবু সাঈদ নামে এক ব্যবসায়ী করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় ফতুল্লার কাশীপুর, বাংলাবাজার ও আমবাগান এলাকাও লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা জেলাবাসীকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ঘরে থেকে যে কোনো ধরনের সহায়তা চাইলে আমরা ঘরে ঘরে সহায়তা পৌঁছে দেব। সেটা খাদ্য বা আর্থিক সহায়তা যাই হোক। কিন্তু ঘরে থাকতে হবে। এই মুহূর্তে ঘরে থাকার কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর হবো।
