বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চারদিন ধরে পড়ে আছেন অজ্ঞাত নারী
চারদিন ধরে ফেনী নদীর মাঝভাগে আছেন তিনি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৩৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভারত সীমান্তে ফেনী নদীর মাঝভাগে টানা চারদিন যাবৎ ভারত থেকে পুশইন করা মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী অবস্থান করছেন। কখনো বসে আবার কখনো শুয়ে আছেন তিনি।
গত শুক্রবার ভারতে ফেরত পাঠাতে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোন সুরাহা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় ওই নারী পড়ে আছেন নদীর মাঝভাগে বালুর মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সুযোগ বুঝে এসব ভারসাম্যহীনদের ফেনী নদীর জিরো পয়েন্টে ঠেলে দেয় যাতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পারে।
নারীটি বারবার ভারতের দিকে যেতে চাইলেও বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন তাকে বাধা দিচ্ছেন। বাংলাদেশ সীমান্তের লোকজন মানবতার বিবেচনায় তাকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারসাম্যহীন ওই নারী নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাধা দেয়। পরে শুক্রবার সকাল ১০টায় আনন্দপাড়া আবাসিক এলাকার ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’ এ দুদেশের সীমান্ত বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মহামুনি সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু ১ এর ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’এ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
এই বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল তারিকুল হাকিম জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই নারীকে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’-এ দেখা যায়। ওই নারী যখন বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করতে চায় তখন বিজিবি সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে নারীটি বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাকে দাবি না করায় বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
