ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটির দুই গ্রামের কেউ সহায়তা পাননি

রাঙামাটির দুই গ্রামের কেউ সহায়তা পাননি
×

কষ্টে দিনযাপন করছেন তারা - সমকাল

রাঙামাটি অফিস ও জুরাছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৫৭ | আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪৭

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রাঙামাটি সদরের বালুখালী ইউনিয়নের বসন্ত পাংখোয়া পাড়া ও বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নের কৈতুরখিল মারমা পাড়ার লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে দুই গ্রামের ৮৮ পরিবার কষ্টে দিনযাপন করছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত এই দুই গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে কোনো ত্রাণ সহায়তা এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কোনো লিফলেট পৌঁছায়নি।

রোববার সরজমিনে দেখা গেছে, রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নে অবস্থিত এই বসন্ত পাংখোয়া পাড়া। প্রায় ১৫শ’ ফুটের উপরে পাহাড়ের চূড়ায় এই গ্রামে ৩০ পাংখোয়া পরিবারের বসবাস। যদিও এই পাড়া রাঙামাটি সদরের মধ্যে অবস্থিত হলেও দুর্গমতার কারণে গ্রামের লোকজনদের জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এই গ্রামের লোকজনদের প্রধান পেশা হচ্ছে জুম ও কৃষি চাষ। গ্রামের লোকজন উৎপাদিত কৃষি পণ্য বনযোগী ছড়া বাজার ও রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অপর পাশে গুচ্ছ মারমা পাড়া। ভৌগলিক কারণে এই কৈতুরখিল মারমা পাড়াটি  বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নে আন্দারমানিক ছড়া এলাকার ৩নং ওয়ার্ডে অর্ন্তগত। এই পাড়ায় ৫৮ মারমা পরিবার রয়েছে। তাদেরও একমাত্র পেশা জুম ও কৃষি চাষ। এই দুটি গ্রাম দুর্গমতার কারণে যুগ যুগ ধরে সরকারি-বেসরকারিভাবে উন্নয়নের ছোয়া থেকে বঞ্চিত। উপরন্তু করোনাভাইরাসের কারণে নৌপথের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন দুই গ্রামের লোকজন। ঘরে বসে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

গ্রামের লোকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, করোনাভাইসরাস সম্পর্কে তাদের খুব একটা সুস্পষ্ট ধারণা নেই। করোনা প্রতিরোধে কী কী বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে এই সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে তাদের ধারণা কম। এ ব্যাপারে তাদেরকে সচেতন করতে কেউই এখনও এগিয়ে আসেনি। এমনকি করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনামূলক লিফলেটও পৌঁছে দেওয়া হয়নি তাদের কাছে।

কৈতুরখিল মারমা পাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ জচাই মারমা জানান, করোনাভাইরাস বিষয়ে কেউ গ্রামে এসে দিকনিদের্শনা দেয়নি। রেডিও খবরের মাধ্যমে যা শুনছি তাতে কিছু সচেতনতা হচ্ছি। তবে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী। কাজ বন্ধ হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে।

মুটুসিং মার্মা জানান, তার তিন সন্তান। দিনমজুরি করে চলে তাদের সংসার। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয় রোজগারও থেমে গেছে। ঘরে যা চাল ছিল আজ পর্যন্ত চলবে।

বসন্ত পাংখোয় পাড়ার সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার নিকোলাই পাংখোয়া জানান, সরকারিভাবে চারদিকে ত্রাণ সহায়তা দেখা গেলেও এ পাড়ায় এখনও কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।

সুবলং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মধুমিলন চাকমা বলেন, সরকারি স্বল্প ত্রাণ সহায়তা একসঙ্গে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আরও ত্রাণ পেলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সহায়তা দেওয়া হবে।

বরকল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিধান চাকমা জানান, সরকারি বরাদ্দ এসেছে শুনেছি। তবে কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে জানি না। 

বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মনজুরুল হক বলেন, কর্মহীনদের সহায়তার জন্য প্রথম পর্যায়ের ২৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ২৩ মেট্রিক টন চাল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ২ হাজার ৩শ' পরিবারকে বিতরণ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া প্রকৃত কর্মহীন কেউ বাদ পরলে তাদের ওয়ার্ড সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি

আরও পড়ুন

×