স্বরূপকাঠি-জগন্নাথকাঠি সড়ক
মেরামতের ১০ দিনেই সড়কে গর্ত
স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
স্বরূপকাঠিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সড়ক মেরামত কাজ শেষ হওয়ার ১০ দিনেই বেহাল হয়ে গেছে। অনেক স্থানে দেবে গেছে সড়কটি। কার্পেটিংয়ের পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ছোট যানবাহন চলা দূরের কথা, পায়ে হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজটি করায় এমন বেহাল দশা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, স্বরূপকাঠি-কৃত্তিপাশা সড়কে সেতু, কালভার্টসহ পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন করছে এমএম বিল্ডার্স। এ সড়কই স্বরূপকাঠি-জগন্নাথকাঠি নাম দিয়ে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। সড়কের শুরুতে ৪০০ মিটার অংশ ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামতের প্রাক্কলন করা হয়েছিল। এর মূল ঠিকাদার মাইনুদ্দীন বাশি।
তবে কাজটি কিনে নিয়ে উপ-ঠিকাদার হিসেবে বাস্তবায়ন করেছেন শুভ নামে একজন। চলমান কাজের মধ্যে একই সড়কে আরেকটি মেরামত প্রকল্প জুন মাসের শেষ দিকে নেওয়ায় এটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের কিছু লোকের যোগসাজশে মেরামতের নামে ২৬ লাখ টাকা হরিলুট হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির হোসেন বলেন, সড়কটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত ছিল। মেরামতের কাজ শুরু হলে সবাই খুশি হন। তবে নিম্নমানের কাজ দেখে এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে রাতে ঢালাই শুরু করে। এতেও বাধা দিলে পরদিন তড়িঘড়ি করে পিচ ঢালাই শেষ করে রাতেই চলে যান ঠিকাদারের লোকজন।
সড়কের কাজ খুবই খারাপ হয়েছে দাবি করে সাবেক পৌর মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, কাজ শেষের ১০ দিনের মাথায় পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। পুরো কাজে অনিয়ম হওয়ায় সড়কটির এমন দশা হয়েছে।
জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের নেছারাবাদ উপজেলার দাায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার রতন মিস্ত্রী জানান, শুরুতে তিনি দু’দিন উপস্থিত ছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণে আর যেতে পারেননি। এ বিষয়ে কিছু জানেন না তিনি।
কাজটির বিল দেওয়া হয়ে গেছে জানিয়ে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, কাজের সময় তাঁরা ছিলেন। কাজ খারাপ হলে প্রয়োজনে ঠিকাদার ফের করে দেবে। ঠিকাদারের সিকিউরিটি মানি জমা আছে। প্রয়োজনে চাপ দিয়ে কাজ করানো হবে।
স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবির বলেন, কাজের মান খুবই খারাপ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনিসহ কাউন্সিলররা সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় উপ-ঠিকাদার মান ঠিক রাখবেন বলে জানান। কিন্তু তাঁরা যেনতেনভাবে কাজ করে পালিয়ে গেছেন। এতে চরম অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
