বেগমগঞ্জে চাঁদা না দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে তাণ্ডব
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজি উল্লাহর ছেলে সোলাইমান সুমন -সমকাল
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৮:৪২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বসতঘর নির্মাণে চাঁদা না দেওয়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, বোমাবাজি ও মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার দুপুরে উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়ানের মোশাকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হামলাকারীরা বাড়ির সামনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করে আহত সোলাইমান সুমনকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে বাধার সৃষ্টি করে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্তপুলিশ সুপার শাহাজাহান শেখ ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজি উল্লাহ ও তার ছেলে স্থানীয় হরিবল্লবপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের পিএইচপি সোলাইমান সুমন (২৮) জানান, সকাল ১১টার দিকে তিনি বাড়ির সামনে গাছ লাগাচ্ছিলেন। এ সময় মোশাকপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে শাকিল মাহমুদের অনুসারী জয়নাল ও আকবর বাড়ির পাশে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলে সুমন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে জয়নাল ও আকবর চলে যায়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর শাকিলের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওজিউল্লার বাড়িতে এসে অশোভন আচরণ করে। আহত সোলাইমান সুমন বলেন, তার বাবার সাথে সন্ত্রাসীদের খারাপ আচরণের প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাতে এলাপাতাড়ি পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়িতে হামলা করার প্রস্তুতি নিলে বাড়ির নারীরা দা-বটি নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে তারা পিছু হটে যায়। আহত সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে সন্ত্রাসীরা আবার সুমনের ওপর আক্রমণের জন্য বাাড়ির সামনে অবস্থান নেয়।
মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজি উল্যাহ বলেন, তার বাড়িতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানী আলাইয়ারপুর ইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের অনুশারী শাকিল ও তার লোকজন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি তিনি পুলিশ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের জানান। এরপর শাকিল কিছু দিন চুপ থাকেন। পরবর্তীতে আবার ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শাকিলের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি এ হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীকে গ্রেফতার দাবি জানান।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে বুধবার বিকেলে আহত সোলাইমান সুমনকে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সুমনের মাথায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।
সুমনের বড় ভাই স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পুলিশ আসার পর হামলাকারীরা চলে গেলেও ফোনে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। দোকানে যেতে হলে তাদের জন্য এক লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলছে।’
এ বিষয়ে ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফেনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাজাহান শেখ ঘবলেন, খবর পেয়ে তিনি বেগমগঞ্জ থানার ওসিকে নিয়ে ঘটনস্থল পরিদর্শন করেছেপন। শাকিল নামের স্থানীয় এক সন্ত্রাসী মুক্তিযোদ্ধার বড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে। তবে হামলাকারীদে ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
