ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাত করে ধরা খেলেন তারা

১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাত করে ধরা খেলেন তারা
×

চাল আত্মসাতের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা -সমকাল

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৪৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

পিরোজপুরের নাজিরপুরে হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও কালো বাজারে বিক্রির চেষ্টার দায়ে দু’জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

বৃহস্পতিবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান তাদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। 

দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন আবুল কালাম সুতার (৫০)। তিনি উপজেলার ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের কুলইতলী গ্রামের মৃত জব্বার সুতারের ছেলে। 

অপরজনের নাম গোলাম মোস্তফাকে (৫৫)। তিনি একই ইউনিয়নের উত্তর কলারদোয়ানিয়া গ্রামের মৃত হেমায়েত হোসেনের ছেলে ও ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাজিরপুর থানার এসআই মো. সাইদুর রহমান জানান, উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার মহসিনের গোডাউনে তল্লাশি করে ওই কর্মসূচির ২৬ বস্তা চাল উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান। ওই চাল গত মার্চ মাসে বিতরণ করার কথা ছিলো। 

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম জানান, ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল নির্ধারিত কার্ডধারীদের পরিবর্তে স্থানীয় ডিলারের কাছ থেকে ইউপি সদস্য আবুল কালাম সুতার নিজে উত্তোলন করেন। পরে তা কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ না করে আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় কার্ডধারী স্থানীয় ছরোয়ার হোসেন সুতার চাল থেকে বঞ্চিত হন। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও ওই ইউপি সদস্য ও  গ্রাম পুলিশ গোলাম মোস্তফাকে আটক করেন। পরে ইউএনও মোহম্মাদ ওবায়দুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযোগকারী ছরোয়ার হোসেন সুতার জানান, ইউপি সদস্য আবুল কালাম তাদের কয়েকজনের নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে তা বিতরণ না করে আত্মসাত করেছেন। আর গোলাম মোস্তফা উপজেলায় ধান-চাল কালোবাজারে ক্রয়-বিক্রয় চক্রের মূল হোতা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও ইউএনও মোহম্মাদ ওবায়দুর রহমান বলেন, কার্ডধারী ছরোয়ার হোসেন সুতার তার নামে একজন বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে বিষয়টি আমাকে মুঠোফোনে (ইউএনও) জানান। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের বৈঠাকাটা বাজারে গিয়ে ওএমএস ডিলার মহসিনের গোডাউনে ইউপি সদস্য কালামসহ চালবঞ্চিত কার্ডধারীদের সঙ্গে কথা বলি। সেখানে ডিলার মহসিনকে পাওয়া না গেলেও চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ গোলাম মোস্তফা ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম চালের হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে দেখাতে পারেননি। এমনকি চাল বিতরণের রেজিস্ট্রারটিও দেখাতে পারেননি। এক পর্যায়ে গ্রাম পুলিশ মোস্তফা মাস্টাররোল উপস্থাপন করলে তাতেও গড়মিল পাওয়া যায়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি, এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন

×