ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

‘ম্যানার’ শেখানোর নামে রাতে ডেকে নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং, আটক ১২

‘ম্যানার’ শেখানোর নামে রাতে ডেকে নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং, আটক ১২
×

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একই বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা শনিবার প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পরে অভিযুক্তরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে লিখিতভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

স্বীকারোক্তিতে তারা ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব। তারা সবাই ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া ও পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর নবীন শিক্ষার্থীদের কান ধরানো, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ফরমাল পোশাকের নিয়ম শেখানোর নামে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় এক নবীন শিক্ষার্থী কৌশলে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতির কাছে খবর দেন। এরপর ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টির‍্যাগিং সেলের সদস্যরা উপস্থিত হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আটক করে নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, আমাদের বাবা-মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা হয়। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং পরিচয়ের নামে অপমানজনক আচরণ করা হয়। পরে জাকসুর নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করেন।

একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান দাবি করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার ‘ম্যানার’ শেখানোর অজুহাতে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠে নিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টির‍্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে তিনি ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং প্রতিরোধে সবাই যখন সচেতন, তখন এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাকসু কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×