সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত
কল্যাণাংশু নাহা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের গ্রুপে যুক্ত হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মিলে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করার অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ নামক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত একটি গোপন সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহা। উক্ত সভায় তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এবং বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন করণীয় উল্লেখ করে দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন, যার অডিও ও ভিডিও রেকর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির পরিপন্থী। ফলে চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬’-এর ধারা ৪৩ (৪) অনুযায়ী তাঁকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন নিয়ম অনুযায়ী তিনি খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক কল্যাণাংশু নাহা বলেন, আমি লোকমুখে শুনেছি যে চিঠিটি বিভাগে পৌঁছেছে। তবে সেটি এখনও আমি ব্যক্তিগতভাবে হাতে পাইনি। তাই এই বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তাঁর পক্ষে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিটিং করা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। অধিকতর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- টেলিগ্রাম
- নিষিদ্ধ
- নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
