নারীসহ একাধিক ব্যক্তিকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান, ভিডিও ভাইরাল
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২০:৪৭
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে চিকন লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিভাষ সরকার নূপুর। এ ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নূপুরের হাতে একটি লাঠি, কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাঁর মেয়ে এগিয়ে এলে তাঁদেরও পেটাতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ভিডিওটি গত ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামে বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নূপুরের বাড়িও একই গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার ও স্থানীয় উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তাঁর জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তাঁর দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তাঁর দুঃসম্পর্কের চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাঁদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাঁদের কিছু জমিও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নূপুর। এতে বাধা দিলে তাঁকে, তাঁর স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানী বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
ছাওয়ালা বাজারের বাসিন্দা বিপুল দাস বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তাঁদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভাষ সরকার নূপুর তাঁর লোকজন দিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করিয়েছিলেন। তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, তারপরও চার বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নূপুর। তিনি বলেন, ‘ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাঁদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’
ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ঘটনা কখনো কাম্য নয়। তাঁর উচিত ছিল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান করা।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, ‘কে কাকে মারছে ভিডিও দেখে চেনার উপায় নেই। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
