রায়গঞ্জের ১১২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২০:০০ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ২০:০১
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১২টিতেই বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি, শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং পাঠদানের গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবসর, পদোন্নতি, বদলি এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ায় তাঁরা দ্বৈত দায়িত্বের চাপে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ প্রদীপ বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পাঠদানের সময় কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রামপাংগাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তামান্না শারমীন নাজমা বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসের নথিপত্র, সরকারি চিঠিপত্র, বিভিন্ন সভা-সমন্বয় এবং ক্লাস—সবকিছু একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে। একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। অবসর, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ১১২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হলে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।
