আশাশুনিতে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১
ফাইল ছবি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৪৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম ও সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দুসের সমর্থক দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সরবত আলী মোল্যা ( ৫৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের ১০ জন। এ সময় ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে চেয়ারম্যানের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত সরবত মোল্যা গদাইপুর গ্রামের মৃত সামছুর মোল্যার ছেলে।
গ্রেপ্তার হয়েছেন- চেয়ারম্যান ডালিমের ভাই জুলি, বাচ্চু, বাচ্চুর মেয়ের জামাই সাদ্দাম ও বাচ্চুর ছেলে কাইয়ুম ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলীসহ ১০জন।
আহতরা হলেন- চেয়াম্যান ডালিমের ভাই গদাইপুর গ্রামের আহসান হাবিব টগর, একই গ্রামের কাজল ফকির, জাকির মোল্যা, সেলিম সরদার এবং অপর পক্ষে রব্বানী মোল্যা, সবুজ মোল্যা, লাদেন মোল্যা ও শৈবাল মন্ডল। আহতরা ঢাকা মেডিকেল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান ডালিমের ভাই টগর মাছ বিক্রির জন্য গদাইপুর মৎস্য সেটে যান। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গদাইপুর গ্রামের সবুজ মোল্যার নেতৃত্বে মোমিন, মফিজুল, আছাদুল, মজিদ মোল্যাসহ ৮/১০জন হাতুড়ি ও রামদা দিয়ে টগরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে বাঁচাতে জাকির ও সেলিম এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে জখম করে এবং টগরের মাছ বিক্রির নগদ টাকা ও সেলিমের মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়। টগরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। এদিকে, টগর গুরুতর আহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক মানুষ জোট হয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। এতে সরবত ও রব্বানীসহ কমপক্ষে ৫জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সরবত মোল্যার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শনিবার ভোরে মারা যান। এদিকে, সরবতের মৃত্যুর খবরে তার পক্ষের লোকজন চেয়ারম্যান ডালিমের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চেয়ারম্যান ডালিমের স্ত্রী রেহেনা খাতুন জানান, তার বাড়ি ভাংচুরসহ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দলিলসহ সব মালপত্র লুটপাট করা হয়েছে। এতে তাদের কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আশাশুনি থানার ওসি আবদুস সালাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
