ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

নাটোরে ভেন্টিলেটর ও শয্যা সংকটে করোনা ইউনিট

নাটোরে ভেন্টিলেটর ও শয্যা সংকটে করোনা ইউনিট
×

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:২২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

নাটোরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ। তবে সম্ভাব্য করোনা আক্রান্তদের সেবা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর ও শয্যা সংকটে ভুগছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরতলির একডালা এলাকায় পরিত্যক্ত ভবঘুরে কেন্দ্রে করোনা আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুতের পর ৪৪টি শয্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন নাটোর জেলা শাখা। তবে এখনও হয়নি পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪০টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন।

নাটোর জেলায় সম্ভাব্য করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য একমাত্র আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে নাটোর সদর হাসপাতালকে প্রন্তত করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বৈশিষ্ট্যে গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অন্য রোগীদের কথা চিন্তা করে আইসোলেশন সেন্টারটি সম্প্রসারিত করে শহরের উপকণ্ঠ একডালায় স্থাপন করা হয়েছে। এখানকার পরিত্যক্ত ভবঘুরে আশ্রয়ণ কেন্দ্রটিকে বসবাস উপযোগী করে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় শয্যার ব্যবস্থা করতে না পারায় এগিয়ে এসেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলো। জেলার প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোতে বাধ্যতামূলক করোনা আইসোলেশন ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ থাকলেও উপযুক্ত নার্স ও চিকিৎসক নিশ্চিত করতে না পারায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রশাসন। তবে ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের মালিকরা আইসোলেশন সেন্টারের জন্য প্রযোজনীয় শয্যাসহ বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে ওই আইসোলেশন সেন্টারে দুদফায় ৪৪টি শয্যা দিয়েছেন তারা।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইসোলেশন সেন্টারটিতে শয্যা স্থাপনের পর সম্ভাব্য করোনা রোগী রাখার ব্যবস্থা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেন্টিলেটরের এখনও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়ে ৪০টি ভেন্টিলেটর চেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে আইসোলশনে চিকিৎসা সেবার জন্য কতজন চিকিৎসক, নার্স, অপারেটরসহ জনবল কাজ করবে তা এখনো নির্ধারণ করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। 

বাংলাদেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল রাজা বলেন, করোনা আইসোলেশন ইউনিটে প্রাথমিকভাবে আমরা ৪৪টি শয্যা দিয়েছি। শিগগরিই আরও ২৬টি শয্যা দেয়া হবে। এছাড়া আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করা হবে।

সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, নাটোরে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবুও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। আইসোলেশন সেন্টারে শয্যা স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া শংকর গোবিন্দ স্টেডিয়ামের ইনডোর স্টেডিয়াম প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভেন্টিলেটর চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সম্ভাব্য করোনা আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত জনবল নির্ধারণ কাজ চলছে। 

উল্লেখ্য, শনিবার নাটোর থেকে নতুন ৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত পাঁচ দিনে জেলায় করোনা সন্দেহে প্রেরিত ২৬টি নমুনার মধ্যে ২১টির ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। বাকী ৫টির ফলাফল এখনও আসেনি।

আরও পড়ুন

×