নারায়ণগঞ্জ থেকে লাশ এনে গভীর রাতে দাফনের চেষ্টা, গ্রামবাসীর বাঁধা
ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ২৩:৪৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
নারায়ণগঞ্জ থেকে নিহত এক পোশাক শ্রমিকের লাশ এনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কায়েমপুর ইউনিয়নের বিয়াঙ্গারু গ্রামে শনিবার গভীর রাতে গোপনে দাফনের চেষ্টাকালে বাঁধা দিয়েছে গ্রামবাসী। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ রাতেই লাশটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের নিয়ে যায়।
স্থানীরা জানায়, এ সময় লাশের সঙ্গে নিহতের স্ত্রীসহ ৪ স্বজনকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে সিভিল সার্জনের নির্দেশে লাশসহ স্বজনদের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে রোববার সকাল ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় লাশের সৎকার বা নমুনা সংগ্রহের কোনটিই সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে শাহজাদপুরের নিভৃত পল্লীতে লাশ কিভাবে এলো তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে নিহত আব্দুর রহিম (৫০) নামে এক পোশাক শ্রমিকের লাশ এনে গভীর রাতে নিজ গ্রামে দাফনের চেষ্টা চালান তার স্বজনরা। এলাকার লোকজন এতে বাঁধা দেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন লাশটি উদ্ধার করে।
শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, লাশ ও তাদের স্বজনদের আপাতত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন। তাতে স্পষ্ট লেখা আছে নারায়গঞ্জ সদর হাসপাতালে আনার আগেই ‘ব্রডডেথ’ বা বাড়িতে মারা গেছে। শনিবার দুপুর আব্দুর রহিমকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আগেই সে মারা গেলেও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নিভৃত পল্লীতে লাশ কীভাবে এলো, তা নিয়ে আমরাও হতবাক হয়েছি।
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত আব্দুর রহিম ও স্ত্রী-স্বজনদের নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নমুনা সংগ্রহের পর লাশ দাফন ও বাকিদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি সৈয়দ সহিদ আলম বলেন, আমারা নিজ উদ্যোগে শুধু মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোভস ব্যবহার করছি। লাশের গাড়ি চেক করার মতো প্রয়োজনীয় পিপিই বা নিরাপত্তা পোশাক পুলিশকে সরবরাহ দেয়া হয়নি। সেতুর উভয় পাড়েই দিনরাত পুলিশের পাহারা আছে। অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনের দায়ে শনিবার সেতুর পশ্চিম থানা, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী ২৮টি বাস, প্রাইভেট কার ও মাক্রেবাবাস আটক করা হয়েছে।
শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, লাশটি আনার পর দাফনের চেষ্টার আগে পুলিশকে জানানো হয়নি। পরে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
