হাসপাতাল থেকে তিনজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায়

হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দুই আসামিকে - ভিডিও থেকে নেওয়া
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৩ | ০৩:৫০
হামলায় আহত হয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তিনজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটি পুলিশের আইনবিরোধী কাজ বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও একজন আইনজীবী।
মোংলায় ভাড়াটিয়ার হামলায় বাড়ির মালিকসহ অন্তত ১০ জন নারী-পুরুষ আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় গুরুতর জখম পাঁচজনকে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে পুলিশ আটক করেছে। শুক্রবার পৌর শহরের জয় বাংলা এলাকায় এ হামলার ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক সাইফুজ্জামান প্রিন্সের ছোট ভাই টিপু হাওলাদার।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে জয় বাংলা এলাকার মজনিয়ার শেখ ও অহিদুলের কাছ থেকে তাঁর বড় ভাই সাইফুজ্জামান প্রিন্স ৩৫ দশমিক ৫৩ শতক জমি কিনে বাড়ি করেন। কয়েক বছর আগে স্থানীয় সোহেল ও ফাতেমা দম্পতির কাছে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে তারা গ্রামের বাড়ি চলে যান। ওই বাড়ির জাল কাগজ তৈরি করে দলিল করেন ভাড়াটিয়ারা। শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়িতে গেলে ভাড়াটিয়া সোহেল-ফাতেমা গং তাদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আহত হন সাইফুজ্জামান প্রিন্স ও নিকটাত্মীয় সোবাহান শেখ, রাসেল ফকির, সুমি আক্তার, সবুজ, রাসেল শেখ, মিজান শিকদার, তৈয়ব শেখ, শরিফুল শেখ ও টিপু হাওলাদার।
এর মধ্যে গুরুতর জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রিন্স, রাসেল, সবুজসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত প্রিন্সের মা শামসুন্নাহার বেগম, স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ঝুমুর আক্তার এবং তাঁর মেয়ে মারজিয়া আক্তারকে হাতকড়া পরিয়ে শুক্রবার থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বিকেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হামলার শিকার ১০ জনসহ ১৫ জনকে আসামি করে সোহেলের করা মামলায় ৯ জনকে আটক করে শনিবার জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গুরুতর জখম হয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোবাহান শেখ, রাসেল ফকির ও সবুজকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পুলিশকে ফোন দিলে আহতদের ফেরত পাঠানো হয়।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহীন বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে তাদের অনুমতি ছাড়া আটক করে থানায় নিতে পারে না পুলিশ। এটা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড।
টিপু হাওলাদার আরও বলেন, নিজেদের বাড়িতে উঠতে গিয়ে ভাড়াটিয়ার হামলার শিকার হলেন। পুলিশ সহযোগিতা না করে উল্টো তাদের লোকদের গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠান। তিনি এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে বলেন, তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সোহেল-ফাতেমা দম্পতি আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা করেন।
অভিযুক্ত সোহেল-ফাতেমা দম্পতি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে আদালতে তারা মামলা করেছেন। মামলা চলা অবস্থায় প্রিন্স ও তাঁর লোকজন বাড়ি দখল নিতে এলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তারাসহ তাদের লোকজন আহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন তারা।
মোংলা থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, পরে কথা বলতে হবে।
মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার জানান, নিজ বাড়িটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালান প্রিন্স হাওলাদার। এ নিয়ে সংঘর্ষের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রিন্সসহ ১৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মামলার পর আটকদের মধ্যে ৯ জনকে আদালতে পাঠানো হয় ও বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আনা পক্ষপাতের অভিযোগ সঠিক নয়।
বাগেরহাট জজকোর্টের আইনজীবী ও দুদকের জেলা পিপি মিলন কুমার ব্যানার্জি বলেন, কোনো অসুস্থ ও আহত আসামিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ চিকিৎসকের বিনা অনুমতিতে হাসপাতাল থেকে আটক করে নিয়ে যেতে পারে না। তাঁকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হলে আটক করে থানায় বা আদালতে পাঠাতে পারে। এ ক্ষেত্রে আহত অবস্থায় পুরোপুরি চিকিৎসা না দিয়ে আটক করে থানায় নেওয়া আইনবিরোধী কাজ।
- বিষয় :
- হাতকড়া
- আইনবিরোধী কাজ