ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট, ক্ষতির মুখে কৃষক

ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট, ক্ষতির মুখে কৃষক
×

ছবি: সমকাল

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৩ | ১১:৩৮ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৩ | ১১:৩৮

মাগুরার মহম্মদপুরে চলতি বছর পাটের ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট। অন্যদিকে বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও ধানের চারা রোপণ করতে না পারায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। খাল-বিলে পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই কৃষকরা উপজেলার বিনোদপুর এলাকার নবগঙ্গা নদীতে পাট জাগ দেওয়া শুরু করেছেন। পরিবহন খরচ অতিরিক্ত হওয়ায় অনেক দরিদ্র কৃষকের পাট ক্ষেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। পাট জাগ এবং ধান চাষ নিয়ে এ এলাকার কৃষকের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত দুই বছরে দাম বেশি পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। এ বছর উপজেলায় পাটের ভালো আবাদ হয়েছে। পাট গবেষণায় খরাসহিষ্ণু রবি-১ জাতের পাটের চাষ বেশি করা হয়েছে। নদী এবং বিল অঞ্চলের আশপাশের কৃষকরা পাট কেটে সেচের মাধ্যমে ধান চাষ শেষ করলেও উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক পাট কেটে ক্ষেতেই রেখে দিয়েছেন।

শনিবার সকালে সরেজমিন উপজেলার বিনোদপুর ও বাবুখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেতের পাট গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যেসব জমিতে বেলে মাটির পরিমাণ বেশি, সেসব ক্ষেতের পাটগাছ শুকিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাল-বিল, ডোবা-নালায় পানি জমেনি।

ডুমুরশিয়া গ্রামের চাষি রহমান শেখ। তিনি দুই একর জমিতে পাট চাষ করেছেন এ বছর। ফলন বেশ ভালো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির অভাবে এক একর জমির পাটগাছ ক্ষেতেই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পাট কেটে ফেলব বলে ভাবছি, কিন্তু খাল-বিলে পানি না থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।’

দুই বিঘা জমির পাট আবাদ করেছেন বিনোদপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্যা। তিনি বলেন, ‘আমি পাট কেটে আমন ধান লাগাব। আমার বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও বৃষ্টির অভাবে জমি চাষ করতে পারছি না। সেচের ব্যবস্থা করে ধান লাগাব। কিন্তু এত খরচ করে আবাদ করা পাট কী করব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।’

কালুকান্দি এলাকার কৃষক জমির মিয়া বলেন, ‘অনেক টাকা খরচ করে ভ্যানে করে পাট নিয়ে নবগঙ্গা নদীতে পাট জাগ দিয়েছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান বলেন, গত বছর দাম ভালো হওয়ায় এবার উপজেলায় পাটের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অনেকে তিলের চাষ বাদ দিয়ে পাটের আবাদ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত খরার কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ সুবিধা অব্যাহত রাখতে চাষিদের গভীর নলকূপ চালু করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন

×