ফরিদপুরে চোরাই মোটরসাইকেল-ইজিবাইকসহ গ্রেপ্তার ৭
গ্রেপ্তার চোর চক্রের ৭ সদস্য। ছবি: সমকাল
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১২:৩১ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১২:৩১
ফরিদপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি চোরাই মোটরসাইকেল, ৬টি ইজিবাইক ও চুরির কাজে ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
শনিবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। এই চোর চক্রকে ধরতে মাঠে কাজ শুরু করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সদস্য রাসেল মাতুব্বরকে (৩৫) একটি পালসার মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, রাসেল বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চুরি করে। তার সহযোগী বাদশা, সিদ্দিক ও সাদ্দাম। সিদ্দিক ও বাদশা চুরি করার জন্য মাস্টার চাবি তৈরি করে দেয়। তাদের কাছে চুরি করা মালামাল রয়েছে। পরে শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ছনেরটেক গ্রামে বাদশার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাদশা ফকিরকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৩টি ডিসকভার ও একটি রোড মাস্টার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
শাহজাহান আরও বলেন, বিকালে সিদ্দিকের বাড়ি রঘুনন্দনপুরে অভিযান চালিয়ে একটি পালসার, দুইটি ডিসকভার ও একটি রেঞ্জার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং সিদ্দিক সরদারকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। সিদ্দিকের দেওয়া তথ্যমতে, রাতে রাজবাড়ী জেলার জবানীপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে আল আমীনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজতে থাকা তিনটি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাতে সদরপুর উপজেলার হাটকৃষ্ণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আয়নাল হোসেনকে (৩২) আটক করা হয়। এসময় তার বাড়িতে থাকা তিনটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে আটকদের দেওয়া তথ্যমতে, ভোররাতে ফরিদপুর শহরের আলীপুর বাদামতলী সড়ক থেকে সহযোগী ইয়াছিন খাঁ (৩০) ও নর্থ চ্যানেল থেকে সাদ্দাম মোল্যাকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তাররা পরস্পর যোগসাজশে সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চুরি করে বিক্রি করে আসছিলেন। তারা আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান বলেন, রাসেলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১১টি, বাদশার ৯টি, সিদ্দিকের ৮টি, সাদ্দামের ৪টি, ইয়াছিনের ৪টি ও আল-আমিনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বাড়ি ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এ ঘটনায় তাদরে বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার বিকালে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম এ অভিযানে অংশ নেয়।
