ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রধান শিক্ষকের নির্যাতনে অচেতন শিশু, তদন্ত কমিটি

প্রধান শিক্ষকের নির্যাতনে অচেতন শিশু, তদন্ত কমিটি
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৩ | ১৪:৩৮ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৩ | ১৪:৩৮

বগুড়ার শাজাহানপুরে পড়া না পারায় এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছেন প্রধান শিক্ষক। নির্যাতনে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। বুধবার এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আশেকপুর ইউনিয়নের জোড়া এমদাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, পড়া না পারায় প্রধান শিক্ষক প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমিয়ারাকে ৫০ বার কান ধরে ওঠবস করান। এ ছাড়া চড়থাপ্পড়ও মারেন। এতে শিশুটি শ্রেণিকক্ষেই অচেতন হয়ে পড়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক নাজনীন আখতারকে দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। সেই সঙ্গে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

একাধিক অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়, এর আগেও অনেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন প্রধান শিক্ষক নাজনীন আখতার। তাঁর ভয়ে কয়েক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করেছে। প্রধান শিক্ষক গত সপ্তাহে প্রথম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছেন। দুই মাস আগে দুষ্টুমি করার কারণে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন ও আল আমিনকে গালমন্দ করেন। প্রধান শিক্ষকের চড়থাপ্পড়ে গত বছর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন শ্রেণিকক্ষে বমি করে ফেলে। অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রধান শিক্ষকের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনার কোনো যোগ্যতাই নেই প্রধান শিক্ষক নাজনীন আখতারের। সহকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক নাজনীন আখতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও সহকর্মী তাঁর সঙ্গে শত্রুতা করছেন। তারাই এ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পারভেজ আহম্মেদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক নাজনীন আখতারকে শোকজ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।


আরও পড়ুন

×