ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভূমি অফিসে সেবা দেন বহিরাগতরা

ভূমি অফিসে সেবা দেন বহিরাগতরা
×

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৬:৩০

সরকারি কর্মচারী না হয়েও মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত কাজ করছেন দুই ব্যক্তি। সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ নিয়ে সেবা দিচ্ছেন তারা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বহিরাগতরা অফিস করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। অভিযুক্তরা হলেন– উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান হকের ভাই মো. সেলিম ও স্থানীয় দালাল মো. রেজাউল।

গত ২৮ আগস্ট সকালে বালিজুড়ী ভূমি অফিসে গিয়ে বহিরাগত সেলিম ও রেজাউলকে অফিসের চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করতে দেখা গেছে। এ সময় পাওয়া যায়নি উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান হককে। তাঁর বিষয়ে জানতে চাইলে বহিরাগত দু’জন বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে চরপাকেরদহে আছেন সোলায়মান হক।

মো. সেলিম বলেন, ‘আমি এই অফিসের কেউ না। আমাকে উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এখানে বসতে বলেছেন। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না, এই বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান।’ পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান হকের সহোদর মো. সেলিম।

একই সময়ে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার টেবিলে দেখা গেল বহিরাগত আরেক ব্যক্তি নামজারির কাজ করছেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিও অফিসের কেউ না। নায়েব সোলাইমান হক আমাকে নামজারির ফাইল দেখতে বলেছেন। এরপরই সটকে পড়েন তিনি।’ এ সময় সেবাপ্রত্যাশী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নাম মো. রেজাউল। ভূমি অফিসের দালাল হিসেবে পরিচিত তিনি। উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান হকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তাঁকে দিয়েই নামজারির কাজ করানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি দালাল চক্র তৈরি করেছেন বালিজুড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান হক। তাদের মাধ্যমেই সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ নিয়ে অফিসের কাজ করান। তাঁর এসব অপকর্মে অতিষ্ঠ সেবাপ্রার্থীরা।

আরাফাহ হোসেন নামে এক সেবাপ্রার্থী বলেন, ‘আমার শ্বশুর জীবিত থাকা অবস্থায় নামজারির জন্য ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন নায়েব সোলাইমান হক। কিন্তু নামজারি দেই-দিচ্ছি বলে এখনও হয়রানি করছেন।’

উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্যমতে, ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কড়ইচূড়া ইউনিয়নে যোগ দেন সোলায়মান হক। এরপর ২০০৮ সালে বালিজুড়ী এবং ২০১১ সালে চরপাকেরদহ ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইসলামপুর উপজেলার পলাবন্ধ ইউনিয়নে বদলি হন। মাত্র তিন মাস সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের ৯ মার্চ ফের বালিজুড়ী ভূমি অফিসে যোগ দেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান হক।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সোলায়মান হক বলেন, ‘বহিরাগতরা আমার নির্দেশেই অফিসে কাজ করছেন। এর মধ্যে বহিরাগত নামজারীর দালাল রেজাউলকে কিছু কাজের জন্য এখানে এনেছি।’

এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দিতে রাজি হননি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমেনা খাতুন।

আরও পড়ুন

×