‘আমি করোনায় আক্রান্ত, আমাকে বাঁচান’, ৪৭৩ বার স্কুলছাত্রের ফোন
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:১৫ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৪২
সরকারি বিভিন্ন পরিসেবার নম্বরে বার বার ফোন করে বলা হয়, ‘আমি করোনায় আক্রান্ত, আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছি, আমাকে বাঁচান।' শুধু একবার নয়, বিভিন্ন জরুরি সেবার নাম্বারে ৪৭৩ বার ফোন করে এই কথা বলা হয়। শেষে নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকার আব্দুল করিম পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তিকে খুঁজতে মাঠে নামে পুলিশ।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলও মাঠে নামেন। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাকে খুঁজে পায় নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাতের নেতৃত্বদানকারী পুলিশের একটি দল। সোমবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের টলটলিয়া পড়া থেকে মোবাইলসহ সেই ফোনকারীকে আটক করা হয়।
আটক ফোনকারীর আসল নাম সুমন। ১৩-১৪ বছর বয়সের এক কিশোর। সে ওই গ্রামের নবীনুরের ছেলে। স্থানীয় একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সময়ে সে বিভিন্ন হটলাইনে কল দিয়ে তার নাম বলে আব্দুল করিম। শহরের আলাইপুর এলাকায় তার বাড়ি। করেনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, তার জরুরি চিকিৎসা দরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে লিখিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানানো হয়, ওই ফোনটি ছিল প্রতারণা বা হয়রানিমূলক। সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্র মজা করার জন্যই সরকারের বিভিন্ন পরিসেবার নম্বরে ফোন করে।
নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত বলেন, আটক ছেলেটির মোবাইল সিডিআর পর্যালোচনায় দেখা যায় ৬ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সে সরকারি টোল ফ্রি ৩৩৩ নম্বরে ৩১৬ বার, ১৬২৬৩ নম্বরে ৬৩ বার, ১০৬৫৫ নম্বরে ৪০ বার, ১০৯ নম্বরে ৩১ বার এবং ৯৯৯ এ ২৩ বার কল করে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান করেছে। এমন কাজের ফলে সরকারি সম্পদ ও সময় যেমন অপচয় হয়েছে, তেমনি ভুক্তভোগী জনগণ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সেবা হতে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ প্রশাসনসহ দায়িত্বরত অন্যন্য সংস্থা হয়রানির শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে আটক সুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে, আপনাদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখুন তারা যেন মোবাইলের অপব্যবহার করে এমন বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রদান না করে।
