ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

তিন শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মামলা

তিন শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মামলা
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১০

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, খুলনার কয়রা ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তিনটি ঘটনার মধ্যে দুটি ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে রাঙামাটির বরকলে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে।

শিক্ষিকার স্বামীর কাণ্ড

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা মামলা করেছেন। গত শনিবার রাতে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম নামের এক পল্লিচিকিৎসককে। জানা গেছে, রফিকুলের স্ত্রী স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বাড়ির টুকটাক কাজের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডাকতেন। এ সুযোগে তাঁর স্বামী শিক্ষার্থীদের শরীরে আপত্তিকর স্পর্শ করতেন। এমনকি নিজের মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখাতেন। গত ২৮ জুন পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে কৌশলে ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নেন রফিকুল। পরে মুখে গামছা চেপে ধর্ষণ করেন তিনি। কাউকে ঘটনা জানাতেও মানা করেন। গত শুক্রবার মেয়েটি তার শিক্ষিকার বাড়ি গেলে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালালে সে বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে জানায়। গ্রামের বিশিষ্টজনের পরামর্শে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। শাহজাদপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মেয়েকে উদ্ধার করলেন মা

খুলনার কয়রায় বৃষ্টিতে আটকে পড়া শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় তাকে উদ্ধার করেছেন মা। গত শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সাইফুল মোল্লা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত শনিবার বিকেলে সাইফুলের বাড়ির সামনে খেলছিল প্রতিবেশী মেয়েটি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে সে বারান্দায় আশ্রয় নেয়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাইফুল তাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়েটির চিৎকার শুনে মা এসে সাইফুলের মাথায় পিড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে উদ্ধার করেন। পরে এলাকাবাসী সাইফুলকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

কয়রা থানার ওসি হাসানুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাইফুলকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা মামলা করলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

মন্দিরের সভাপতি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হওয়া মামলায় নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মেয়েটিকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার রাতে থানায় এজাহার দেওয়ার পর তাঁকে আটক করে পুলিশ।

পেশায় কৃষক নারায়ণ চন্দ্র রায় স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি। রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গৃহবধূর মামলা

রাঙামাটির বরকলে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির মামলার মো. মহসিন (৪৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসলে যান ওই গৃহবধূ। ফেরার পথে প্রতিবেশী মহসিন তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। 

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী গ্রামপুলিশের সহায়তায় মহসিনকে আটক করে পুলিশে দেয়। ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগ, মহসিন চরিত্রহীন। বরকলে তার স্বী-সন্তান বা কোনো আত্মীয়স্বজন থাকেন না। এমন আরও অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গত শনিবার ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির মামলা করেন বলে জানান বরকল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, মহসিনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিনিধি)

আরও পড়ুন

×