ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী

রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ
×

ফরিদপুর অফিস ও বোয়ালমারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৯

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাদের একাংশ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল রোববার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয় পক্ষ।

এদিন বেলা ১১টায় বোয়ালমারী পৌরসভার কামারগ্রামে অবস্থিত পাঞ্জেরী মডেল মাদ্রাসা ও হেফজখানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী নেতারা। পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে তাদের ইজারা নেওয়া জমি দখলে উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সহসভাপতি শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু দখল করেছেন। ওই জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকিসহ আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন ঝুনু মিয়া।

তিনি আরও বলেন, পাঞ্জেরী মডেল একাডেমির তৎকালীন অধ্যক্ষ পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবুল কাশেম মাহমুদের নামে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ১৪ এপ্রিল ০৪৯৫০ নম্বর লাইসেন্সের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে এক একর জমি লিজ নেওয়া হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে। পরে ১৯৯৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্টেশন মাস্টার গোলাম রসূলের মাধ্যমে ০৭৭৪২/২ নম্বর লাইসেন্সের আওতায় ২৭০/৬ থেকে ২৭০/৯ নম্বর খাম্বার মধ্যবর্তী ৬৬ শতক জমিও লিজ নেওয়া হয়। ওই জমির খাজনা ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু প্রভাব খাটিয়ে তাদের ইজারা নেওয়া জমি দখলে রাখেন। পরে তিনি ওই জমি প্লট আকারে অন্যদের কাছে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন।

সেখানে জানানো হয়, পাঞ্জেরী একাডেমি মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়ায় অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও ইজারাগ্রহীতা আবুল কাশেম মাহমুদ বলেন, রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ইজারা দেওয়া হয় না। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাঁর নামে জমিটি ইজারা নেওয়া হয়েছিল।

এসব দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেল ৪টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, ‘জামায়াত নেতারা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারও কোনো সম্পত্তি আমি দখল করিনি। রেলওয়ের যে সম্পত্তির কথা তারা (জামায়াত) বলছেন, সেই সম্পত্তি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার নামে বরাদ্দ দিয়েছে। সেই এক একর ছয় শতাংশ জমির খাজনা বাবদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা এ বছরের ১৫ জুন পরিশোধ করেছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবুল কাশেম মাহমুদ জমি ইজারা নিয়েছিলেন। পরে রেলওয়ে বিষয়টি জানতে পেরে ২০০৫ সালের ২২ নভেম্বর তাদের ইজারা ও লাইসেন্স বাতিল করে। প্লট আকারে জমি বিক্রির অভিযোগও মিথ্যা। সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, হাসপাতালের সামনে যারা ঘর করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তারা সবাই রেলওয়ের কাছ থেকে নিজ নিজ নামেই ইজারা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম  বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দিতে পারেন।’

আরও পড়ুন

×