ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ

দশ মাস প্যাকেটবন্দি পিসিআর মেশিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাওয়া হলো আরেকটি

দশ মাস প্যাকেটবন্দি পিসিআর মেশিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাওয়া হলো আরেকটি
×

শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ- সমকাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ০০:১৬

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে 'কোভিড-১৯' শনাক্তকারী পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন ১০ মাস আগে কেনা। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ডাক্তারি সারঞ্জামসহ রোগীদের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের চিকিৎসায় ৮টি ভেন্টিলেটর যন্ত্রও শত কোটি টাকা ব্যায়ে কেনা হয় একইসঙ্গে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে পিসিআর মেশিন গত ১০ মাস আগে কেনা হলেও আজও তা ব্যবহার হয়নি। এরপরও গত তিনদিন আগে নতুন আরকটি পিসিআর মেশিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে কলেজ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।

অন্যদিকে, জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে গত দু’বছর আগে ৫টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। চলমান করোনা সংকটে রোগীদের কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের চিকিৎসায় এ সব ভেন্টিলেরটর চালুর উদ্যোগ নেই।

এদিকে, ডাক্তারি সারঞ্জামাদিসহ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রায় আড়াই’শ কোটি টাকা ব্যায়ে মালামাল ক্রয়ে নানাবিধ দুর্নীতির খোঁজে গত বছর তদন্তে নামে দুদক। তদন্তে নামলেও প্যাকেটবন্দি এসব ডাক্তারি সারঞ্জাম ব্যবহারে বিশেষ ছাড় দেয় দুদক। কিন্তু চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হবার আগে দুদকের ছাড়ের পরও পিসিআর মেশিনসহ প্যাকেটবন্দি মালামাল ব্যবহার দূরের কথা, উল্টো স্বাস্থ্য/শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, চলমান করোনায় জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের ১৩টি ভেন্টিলেটর ব্যবহারে কার্যকরী ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি।

কলেজ প্রকল্প পরিচালক ডাঃ কৃষ্ন কুমার পাল বলেন, ‘১০ মাস আগে পিসিআর মেশিন অধ্যক্ষ নিজেই তার সার্ভে কমিটির দ্বারা বুঝে নেন। তারপরেও অধ্যক্ষ কর্তৃক অধিদপ্তরে নতুন আরেকটির চাহিদা পাঠনোর বিষয়টি বোধগম্য নয়। ৮টি ভেন্টিলেটরও কলেজেই রয়েছে। অক্সিজেন প্লান্ট ও বায়ুমান যন্ত্র সেট করলে ভেন্টিলেটরসমুহ ব্যবহার করা যাবে। প্যাকেটবন্দি পিসিআর ও ভেন্টিলেটর ব্যাবহারের দুদকের কোনই আপত্তি নেই বলেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।’

অধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‌‘কলেজ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহিত পিসিআর মেশিনটির বিষয় আমি অবগত নই। আর থাকলেও সেটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেনা। সেটি ব্যবহার করতে গেলে নতুন করে বুঝে নেওয়া বা অনুমতি  প্রাপ্তিতে বিড়ম্বনা রয়েছে। যে কারণে নতুন পিসিআর মেশিনের জন্য গত ২৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য/শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর চাহিদা পাঠানো হয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি মঙ্গলবার বলেন, সিরাজগঞ্জসহ অনেক স্থানেই ভেন্টিলেটর বা পিসিআরসহ গুরত্বপূর্ণ অনেক দামি দামি যন্ত্রপাতি অপরিকল্পিতভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে সেসব অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। সিরাজগঞ্জের প্যকেটবন্দি ভেন্টিলেটর ও পিসিআর মেশিন দ্রুত চালুর বিষয়ে মঙ্গলবার অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×