৪ বছরের শিশুকে যৌনপীড়ন, চা দোকানিকে গ্রেপ্তারের দাবি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০২:৫১
পাবনার ঈশ্বরদীতে মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর লোভ দেখিয়ে ৪ বছর বয়সী এক মেয়েকে যৌনপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন পেশায় চা দোকানি। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষোভে স্থানীয় জনতা থানায় গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা করা হলেও অভিযুক্ত চা দোকানিকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে থানায় এই বিক্ষোভ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাঁড়া ঝাউদিয়া হারানপাড়ার বাসিন্দা বিল্লালের চায়ের দোকানে ওই মেয়েকে নিয়ে তার দাদা প্রায়ই চা পান করতে যেতেন। সোমবারও তিনি নাতনিকে নিয়ে দোকানে যান। এ সময় দোকানি বিল্লাল আদর করার ছলে শিশুটিকে নিজের কোলে বসায় এবং মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখতে দেয়। কার্টুন দেখার সুযোগে সে শিশুটির ওপর বিকৃত যৌনপীড়ন চালায়। শিশুটি চিৎকার করে উঠলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক বিল্লালকে গালমন্দ করেন।
ঘটনার পর দোকানি বিল্লাল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ ও মীমাংসার চেষ্টা করে। জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতেই তারা ঈশ্বরদী থানায় এসে পুলিশকে বিষয়টি জানালেও পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে। এতে উপস্থিত লোকজন থানার ভেতরেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বুঝে সোমবার রাতেই শিশুটির বাবা আলিফ আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (মামলা) তৈরি করা হলেও আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ঈশ্বরদী থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। লোকজন থানায় আসার খবর পেয়েই অভিযুক্ত বিল্লাল পালিয়ে যায়। তবে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
- বিষয় :
- যৌন নিপীড়ন
- মামলা
- শিশু