একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ
ভাইয়ের অবুঝ শিশুকে কোলে নিয়ে কাঁদছেন ছোট ভাই সোহাগ।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৪৪
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পর্শে বাবা-মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় নতুনবাজার মাঠে তাদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। এদিকে, এই তিন মৃত্যুর জন্য পল্লী বিদ্যুতের প্রচণ্ড অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনেরা।
মঙ্গলবার দুপুরে অনন্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু কান্নার রোল। আশপাশের গ্রাম থেকেও শত শত মানুষ এসেছেন শোকাহত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে। নিহত ফরহাদ আহমেদ শাহর তিন অবুঝ শিশু–আবিদ, লাবিবা ও রামিশাকে দেখে কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না। বাবা-মাকে হারিয়ে শিশুরা তখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্বম্ভরপুরের যুবদল নেতা সুলতান আহমদ অভিযোগ করে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের পিলারটি পানির মধ্যে অবস্থিত। সবচেয়ে বড় অবহেলা হলো, ট্রান্সফরমারের ব্রেকারটি (স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ যন্ত্র) স্থায়ীভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। ব্রেকারটি মুক্ত থাকলে একজন বিদ্যুতায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু ব্রেকার বাঁধা থাকায় লাইনে বিদ্যুৎ সচল ছিল এবং একে একে তিনটি প্রাণ ঝরে গেল। তিনি এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ টিনের চালের নিচ দিয়ে কোনো কাভার ছাড়াই মেইন লাইন ঘরে ঢোকায়। ফলে সামান্য ঘর্ষণেই তার কেটে টিনের ঘরটি বিদ্যুতায়িত হয়।
অব্যবস্থাপনার অভিযোগ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলন কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘ছোট ট্রান্সফরমারগুলোতে ব্রেকার থাকে না, তা থাকে বড়গুলোতে। ঘর মেরামতের সময় মিটারের বোর্ড সরানোর আগে আমাদের জানানো উচিত ছিল।’
তিনি আরও দাবি করেন, খবর পাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই লাইন বন্ধ করা হয়েছিল, যার ফলে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ঘটনাটি তদন্তে ডিজিএম রাকিবুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার বিকেলে অনন্তপুর গ্রামে নিজেদের দোকানঘর মেরামতের সময় মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে টিনের চাল বিদ্যুতায়িত হয়। এতে প্রথমে ফরহাদ আহমেদ শাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা নুরুল আমিন এবং পরে মা ফাতেমা বেগমও বিদ্যুৎস্পর্শে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যু