হামাসের প্রশাসন বিলুপ্ত, গাজার নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন কমিটি
হামাসের প্রশাসন বিলুপ্ত। ছবি- সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২৭
দুই দশক শাসনের পর গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রশাসন বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলজাজিরার খবর জানাচ্ছে, গাজার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা তদারকির মতো বিষয়গুলো ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) নামে একটি স্বাধীন টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এনসিএজির অন্তর্বর্তী কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট আলিু আবদেল হামিদ শাথ। তবে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এখনও গাজায় ঢুকতে পারেননি। মিসরের কায়রো থেকে তাদের অস্থায়ী কার্যক্রম চলছে।
এই পদক্ষেপকে হামাসের ‘চাল’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, হামাস টেকনোক্র্যাটদের হাতে শুধু গাজার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের দায়িত্ব দিচ্ছে, সামরিক ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রাখছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার এক হাজার দিন পার হয়েছে। এই যুদ্ধে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯৮ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন এক হাজার ৭২ জনের বেশি মানুষ।
এর মধ্যে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমেও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও অবৈধ বসতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি ক্যাবিনেট নতুন করে আরও ১৩টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।
স্পেনের ‘ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান’ ও বাস্তবতা
সম্প্রতি ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং গত সেপ্টেম্বর থেকে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবে নতুন লাইসেন্স বন্ধ হলেও আগের চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল থেকে সামরিক সরঞ্জাম আমদানি অব্যাহত রেখেছে দেশটি। এমনকি অন্যান্য দেশে থাকা ইসরায়েলের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও ঘুরেফিরে স্পেনে যাচ্ছে ইসরায়েলি অস্ত্র।
কলম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানগত জটিলতা
শুধু স্পেন নয়, আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে আইনি ও সামরিক জটিলতার মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করলেও এখনও দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের প্রধান কয়লা সরবরাহকারী দেশ। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী সরবরাহ বন্ধ করার সুযোগ তাদের রয়েছে।
কলম্বিয়াও ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানি নিষিদ্ধ এবং ইসরায়েলি অস্ত্র কেনা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তবে দেশটি ইসরায়েলি অস্ত্রের ওপর এতটাই নির্ভরশীল, এগুলো পুরোপুরি দেশীয় ও সুইডিশ বিকল্প দিয়ে পরিবর্তন করতে ২০৩২ সাল পর্যন্ত লেগে যাবে।
স্পেন ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোর ইসরায়েলবিরোধী নীতি ভবিষ্যৎ প্রশাসনের সময় বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে কলম্বিয়ার ক্ষমতা নিতে যাওয়া নতুন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইভাবে ২০২৭ সালের নির্বাচনে স্পেনেও যদি ডানপন্থিরা ক্ষমতায় আসেন, তবে তারা সানচেজ সরকারের ইসরায়েলবিরোধী নীতিগুলো বাতিল করে দিতে পারেন।