ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

বাসযোগ্যতায় বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোতে জীবনযাপন কেমন

বাসযোগ্যতায় বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোতে জীবনযাপন কেমন
×

সাইকেল চালিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যেখানে সেখানে যেতে পারেন ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের বাসিন্দারা। ছবি: সিএনএনের সৌজন্যে

বিবিসি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪১

বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক বিবেচনায় ২০২৬ সালের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। তালিকা তৈরিতে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো- এই পাঁচটি বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তালিকায় ১৭৩টি শহরের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সবচেয়ে বাসযোগ্যতার খেতাব ধরে রেখেছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন। শীর্ষ পাঁচে থাকা বাকি শহরগুলো হলো অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। শহরগুলো বসবাসের জন্য কেন এতো অনন্য, তা জানতে সেখানকার স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা শুনেছে বিবিসি।

১. কোপেনহেগেন
ডেনমার্কের রাজধানীটি স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও অবকাঠামোতে শতভাগ নম্বর পেয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা এমন এক জীবন যাপন করেন যেখানে প্রাত্যহিক চলাফেরার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনাবিল আনন্দ।

গত আট বছর ধরে শহরটিতে বসবাস করা পিএইচডি শিক্ষার্থী লরা আমিরা কাসেম বলেন, আপনি সাইকেল চালিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে পারেন, কাজ শেষে হারবারের পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে পারেন। রাতে ঠিকঠাক ঘরে ফিরতে পারেন। 

কোপেনহেগেনের একটি পার্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: এএফপি

সাইকেল চালানোর চমৎকার অবকাঠামো, শহরের ভেতরেই সাঁতার কাটার মতো পরিষ্কার জলাশয় এবং শহরজুড়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ানোর দারুণ মেলবন্ধন কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন লরা। তাঁর যেকোনো সাধারণ দিন শুরু হয় লেকের ধারের শান্ত পরিবেশে। 

বাইরের কোনো অতিথি এলে লরা প্রথমেই নরেব্রো এলাকা বেড়ানোর পরামর্শ দেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মেলবন্ধন ঘটেছে এই এলাকায়। লরা বলেন, এখানকার সবজি থেকে শুরু করে কাবাব কিংবা জুয়েলারি দোকানের পাশেই দেখা যাবে আধুনিক বেকারি, ন্যাচারাল ওয়াইন বার ও ছোট ছোট ডাইনিং স্পট। 

লরা জানান, যারা সন্ধ্যায় দৌঁড়াতে পছন্দ করেন তারা ভিড় করেন লুপেট এলাকায়। সেখানকার পার্কে ৩ কিলোমিটার বৃত্তাকার পথ আছে। সবাই মিলে একসঙ্গে দৌড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া এবং শেষে বাইরে বসে রাতের খাবার খাওয়ার মাধ্যমে দিন শেষ হয়।

২. ভিয়েনা
অস্ট্রিয়ার রাজধানী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় শতভাগ নম্বর পেয়ে এবার দ্বিতীয় স্থানে আছে। এখানকার বাসিন্দাদের কাছে ভিয়েনার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যে। গণপরিবহন কিংবা হেঁটে চলাচল- প্রতিটি মুহূর্ত বেশ উপভোগ্য ও নিরাপদ।

উন্মুক্ত স্থানে বসে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করেন ভিয়েনার বাসিন্দারা। ছবি: এএফপি

ভিয়েনা ট্যুরিস্ট বোর্ডে কাজ করেন ফ্রাঞ্জিস্কা হোচমুলার। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ট্রামে চড়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়াটা তাঁর প্রতিদিনের অভ্যাস। ট্রামে বসে ফোনে স্ক্রল করার চেয়ে তিনি বই পড়া বা জানালা দিয়ে আশপাশের সুন্দর ভবনগুলো দেখতে পছন্দ করেন। এটি হয়তো খুবই ছোট বিষয়, কিন্তু প্রতিদিনকার জীবনে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

মোটে নামের একটি হোটেলের বিপণন বিভাগের কর্মী রোল্যান্ড এগেনহোফার জানান, শহরের ১ থেকে ৯ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট বা এলাকার মধ্যে চলাচলের জন্য গণপরিবহনের তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। শহরের শরৎকালটা বেশ উপভোগ্য। কেউ বেড়াতে এলে তিনি আশপাশের আঙুর খেতে ঘুরতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

৩. মেলবোর্ন
তৃতীয় স্থানে থাকা মেলবোর্ন ৯৬ নম্বর পেয়েছে সংস্কৃতি ও পরিবেশ খাতের জন্য। বাসিন্দাদের মতে, মেলবোর্নের শহরতলিগুলো এক কথায় অনন্য। প্রতিটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। 

মেলবোর্নে রঙিন ট্রামের পাশে বাইসাইকেল লেন। ছবি: সংগৃহীত

হোটেল ও রিসোর্টের জন্য বিখ্যাত ক্রাউন প্লাজা কার্লটন-এর মহাব্যবস্থাপক অ্যান মারি লেনন যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে কাজ করেছেন। মেলবোর্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি বড় শহর হলেও কেমন যেন গ্রামের মতো আবহ ধরে রেখেছে। বাসিন্দারা বেশ আন্তরিক। সংস্কৃতি, খাবার, গান, ফ্যাশন আর আর্ট শহরতলিগুলোকে আলাদা আলাদা পরিচয় দিয়েছে।

৪. সিডনি
স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় শতভাগ নম্বর পাওয়া আরেকটি শহর সিডনি। তবে বাসিন্দারা বলছেন, সহজেই প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া, বহুসংস্কৃতির এলাকা এবং ঘরের বাইরে সময় কাটানোর দারুণ জীবনযাত্রাই শহরটিকে বেশ বাসযোগ্য করে তুলেছে।

ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে পছন্দের শহর সিডনি। ছবি: এএফপি

নিউ সাউথ ওয়েলসের কর্মসংস্থান ও পর্যটন মন্ত্রী স্টিভ কাম্পার বলেন, সিডনিতে বসবাস করা খুবই সহজ। কারণ আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, একটি মনোরম দৃশ্য আপনার খুব কাছেই থাকবে। সেটি হতে পারে হারবার, নীলচে পাহাড় কিংবা সমুদ্র সৈকত। বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন, চমৎকার সব এলাকা, অসাধারণ খাবার এবং জীবনযাত্রার ধরন সিডনিকে অনন্য করে তুলেছে। 

স্টিভ কাম্পার বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক শহর কিন্তু তারপরও এটিকে স্থানীয় অনেকগুলো সম্প্রদায়ের একটি মিলনমেলা বলে মনে হয়। তাছাড়া, ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য সিডনির মতো শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে।

৫. জুরিখ
স্থানীয় বাসিন্দা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ম্যানুয়েলা লিওনহার্ডের মতে, লেক ও নদী ছাড়া জুরিখের কথা ভাবাই যায় না। প্রতিদিনকার জীবনে তিনি নিজের জন্য বের করা একান্ত সময় জুরিখ লেক, লিমাট কিংবা সিল নদীর ধারে কাটাতে পারেন। এখানকার জলাশয়গুলোর পানি খুবই সতেজ ও স্বচ্ছ। 

একান্ত সময় নদীর ধারে কাটাতে পারেন জুরিখের বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

লিওনহার্ড বলেন, শহরটি এতটাই নিখুঁতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, যা ভাবলে নিজেও অবাক হন। এখানে কোনো অনুষ্ঠান যত বড়ই হোক না কেন, পরদিন সকালে তা বোঝারই উপায় থাকে না। সব কিছু পরিপাটি মনে হয়।

আরও পড়ুন

×