মাগুরায় সবজি বাজারে অরাজকতা
ছবি: সমকাল
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ০১:০৬
মাগুরায় সবজি বাজারে চলছে অরাজকতা। করোনার পাশাপাশি রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে সবজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে। সাধারণ ক্রেতা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে খুচরা বাজারের সবজির দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে।
তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা বলছেন, বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
দেশের অন্যতম সবজি উৎপাদনকারী জেলা মাগুরা। মাগুরার উৎপাদিত সবজি ও কাচা মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় চালান হয়ে থাকে। কিন্তু করোনার পাশাপাশি রমজান মাসকে কেন্দ্র করে গত চার-পাঁচ দিন ধরে মাগুরা পাইকারি বাজারের নিকটবর্তী শহরের সব কাচা বাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শহরের পুরান বাজার, নতুন বাজারসহসহ ছোট-বড় ৫-৬টি খুচরা বাজারের বিক্রেতারা অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করছেন। কিন্তু এসব বাজরের পাশেই পাইকারি আড়তে সবজির ব্যাপক সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সরেজমিন মাগুরা পাইকাড়ি আড়ত-এর পাশপাশি খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরের বেগুন খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ১০ টাকার টমেটো ৪০ টাকা, ১৮ টাকার পটল ৪০ টাকা, ২০ টাকার করলা ৫০ টাকা, ৮ টাকা কেজির কুমড়া ২৫ টাকা, ৮ টাকার পুঁইশাক ২০ টাকা, ১০ টাকা কেজির লাল শাক ২৫ টাকা, ২৫ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, ৬৫ টাকা কেজির ধনে পাতা ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকা হালি লেবু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই সাথে অতি প্রয়োজনীয় আলু, পেঁয়াজ, রসুনের দামও পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে অনেক বেশি।
মাগুরা প্রধান পাইকাড়ি আড়ত একতা কাচা বাজারের সভাপতি আকরাম হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের আড়তে সবজির ব্যাপক সরবরাহের পাশাপাশি দামও কম। কিন্তুু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাইকারি আড়তের চেয়ে খুচরা বাজারে সবজি দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে করে দেশের এই দুর্যোগের সময় সাধারণ ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। মূলত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার তদারকির না করায় এ অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে।’
আব্দুল হালিম, আলমগীর হোসেনসহ খুচরা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, তারা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে করোনা সংকটের মধ্যে রাস্তায় বসে ব্যবসা করছেন। তাছাড়া অড়তদারী ও পরিবহন খরচের পাশাপাশি সবজি পচনশীল হওয়ায় তারা সঠিক দামেই পণ্য বিক্রি করছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরার উপ-পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী পরিবহন খরচসহ ব্যবসায়ীরা ৮ শতাংশের বেশি লাভ করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে কোন ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করলে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- মাগুরা
- সবজি বাজার
- অরাজকতা