নোয়াখালীতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০৩:১৯
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও কবির হাট উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন হেলথ্ প্রোভাইডর (সিএইচসিপি) সহ ২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে।
মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মো. মোমিনুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (৪৫) গত ২৮ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে পাঠান। সোমবার রাতে পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। ওই চিকিৎসা কর্মকর্তার করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী সহ ২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ২৪ জনকে হোমকোয়ারেন্টাইনে পাঠানে হয়েছে।
এ দিকে আক্রান্ত চিকিৎসক সোনাইমুড়ী উপজেলা সদরের মেডিকেয়ার হাসপাতালে প্রাক্টিস করতেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে ওই হাসপাতালটি লকডাউন করা হয়েছে এবং হাসপাতালের ১৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সংগ্রহকৃত নমুনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে তার ব্যক্তিগত চেম্বার মেডিকেয়ার হাসপাতালটি মঙ্গলবার সকালে লকডাউন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ১৮ জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৪ সহ ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
অপরদিকে জেলার কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, উপজেলার মধ্য সুন্দলপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডর (৩০) এর নমুনা গত ২৭ এপ্রিল সংগ্রহ করা হয়। ২৮ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা শনাক্ত হয়। করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তার শরীরে উপসর্গ না থাকায় কবির হাটের নিজ বাড়িতে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নমুনা সংগ্রহের পর থেকে ৪ মে পর্যন্ত তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তার বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করে লাল পতাকা টানানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মোমনুর রহমান বলেন, জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ১৭ জন। এর মধ্যে বেগমগঞ্জে ৮ জন, সদর উপজেলার ২ জন, সোনাইমুড়ীতে ৩ জন, হাতিয়ায় ১ জন, সেনবাগে ১ জন ও কবির হাটে ২ জন। এছাড়া সোনাইমুড়ীতে এক ইতালি প্রবাসী ও সেনবাগে এক নির্মাণ শ্রমিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
- বিষয় :
- নোয়াখালী