ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

ফলন ভাল হলেও চিন্তায় রাজশাহীর আম চাষীরা

ফলন ভাল হলেও চিন্তায় রাজশাহীর আম চাষীরা
×

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০৩:৫৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

রাজশাহীতে এবার আমের ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে। জুনের প্রথম সপ্তাহেই পাকতে শুরু করবে আম। তবে করোনার প্রভাবে আমের বাজার পাওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষীরা।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের বাজার কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। তাছাড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর কিছু আম বিদেশে রপ্তানি হয়। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় এবার তা পাঠানো সম্ভব হবে কিনা, তাও নিশ্চিত নয়। 

রাজশাহী কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহীতে এবার ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। গাছে ফলন মোটামুটি ভাল। আশার কথা হলো এখনো বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ- ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে আমের ফলন বেশ ভাল হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। 

আমচাষীরা বলছেন, এবার করোনার প্রভাবে যতটা প্রয়োজন ছিলো, ঠিক ততটা যতœ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে তাদের অধিকাংশ সময় থাকতে হয়েছে ঘরে। পাওয়া যায়নি শ্রমিকও। তারপরও তারা চেষ্টা করেছেন সর্বোচ্চ যতœ নিতে। এতে করে ফলন এখন পর্যন্ত ভালো আছে। 

আমচাষী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার মোসলেম মিয়া বলেন, ফলন ভালো আছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মানুষ আম কিনবে কিভাবে? জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আম পাকতে শুরু করবে। সে সময় করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে লকডাউন বাড়বে। কাঁচামাল হিসেবে আম লকডাউনের বাইরে থাকলেও মানুুষ তো ঘর থেকে বের হবে না। তাহলে আম কিনবে কে? 

আম ব্যবসায়ী জমসেদ আলী বলেন, করোনার এই দুর্যোগে কর্মহীন দেশের অধিকাংশ মানুষ। এখন ডাল-ভাতের জন্য তাদের যুদ্ধ করতে হয়। ত্রাণের আশায় থাকতে হয়। এ সময় টাকা দিয়ে আম কিনে খাওয়া মানুষের কাছে বিলাসিতার মতো হয়ে যাবে। ফলে আমের দাম কমে যাবে। আম ব্যবসায়ীদের এবার লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।

দাম নিয়ে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত গবেষকরাও।  কারণ বিমান বন্ধ থাকায় এবার বিদেশের বাজার ধরা প্রায় অসম্ভব। তাই দেশের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে রাজশাহী ফল গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন বলেন, রাজশাহীর আম বিদেশেও যায়। এবার কিভাবে যাবে, তা নিয়ে হতাশা আছে। তবে আমরা চাই, সরকার এ বিষয়ে নেক নজর দিক। তিনি আরও বলেন, আম উঠতে উঠতে করোনা পরিস্থিতি ভালোর পথে যাবে বলে আশা করি। 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ঝড় ও শিলা বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমের ফলন বেশ ভাল। কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে থাকায় আমের বাজার ধরতে সমস্যা হবে না। আম বাজারে উঠার সময় দেশের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় শরীরের প্রয়োজন পুষ্টি। প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিসমৃদ্ধ আম ভাতের চাহিদা যেমন কমায়, তেমনি বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সবাইকে আম খেতে হবে।

আরও পড়ুন

×