সাংবাদিক হত্যার আসামি পীযূষের বিরুদ্ধে অবশেষে কৃষক হত্যামামলা
মোস্তাফিজুর রহমান পীযূষ
সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০৪:৪৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পারকোলা গ্রামে কৃষক আলী আজগর (৬০) খুনের ঘটনায় সাবেক পৌর কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান পীযূষ ও তার সহোদর অরূপ রহমানসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত মিলে ১১০ জনের নামে মামলা হয়েছে। নিহতের ছেলে জুয়েল রানা বাদি হয়ে সোমবার রাতে শাহজাদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পীযূষ ও অরূপসহ ৮৫ জনকে নামিক, বাকিদের অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পীযূষ সমকাল সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলারও আসামি। বর্তমানে আলী আজগর খুনের মামলায় প্রধান ও অন্যতম আসামি হয়েছেন পীযূষ এবং তার সহোদর অরূপ।
এদিকে, মামলা করতে বাদী পক্ষের গড়িমশি ও দুর্বল পুলিশি তৎপরতার কারণে খুনের দায়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আসামিরা সটকে পড়ায় পুলিশের ধরাছোয়ারও বাইরে রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ৮ জনকে আটক করে। আলী আজগর খুনের ঘটনায় শুধু একজনকে অভিযুক্ত দেখিয়ে বাকিদের অন্য মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফজলে আশিক কৃষক আলী আজগর হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সকলের নাম ও মামলার ফটোকপি সরবরাহ করতে মঙ্গলবার দুপুরে এ প্রতিবেদকের কাছে অপরাগতা প্রকাশ করেন ওসি আতাউর রহমান।
স্থানীয়রা জানায়, সরকারি খাস পুকুরের দখল এবং রাতের অন্ধকারে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার ঘটনা নিয়ে পারকোলা গ্রামে সাবেক ও বর্তমান দু’কমিশনারের দ্বন্দ্ব ও শত্রুতা দীর্ঘদিনের। গত ৪ বছর আগে নির্বাচনের সময় থেকেই বর্তমান কমিশনার বেলাল হোসেন ও সাবেক কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান পীযূষের মধ্যে এলাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব শাহজাদপুরে বেশ আলোচিত। সাংবাদিক শিমুল খুনের ঘটনায় আসামি হয়ে পলাতক থাকলেও জামিনে মুক্ত হয়ে সম্প্রতি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন পীযূষ। পীযূষ এলাকায় আসার পর পরই গ্রামের দু’গ্রুপের মধ্যে থেমে থেমে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ শুরু থেকেই সেভাবে আমলে নেয়নি বলেও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত গত রোববার সকালে পীযূষ ও তার লোকজনের হাতে নির্মমভাবে খুন হন আজগর আলী। আগে নিরব থাকলেও অবশেষে টনক নড়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশের। এরপর কিছুটা তৎপর হলেও মামলা না হবার অযুহাতে মূল আসামিদের ধরার ক্ষেত্রে দায়সাড়া ভূমিকা দেখা গেছে পুলিশের।
তবে ওসি আতাউর রহমানের দাবি, পুলিশ শুরু থেকেই তৎপর থাকলেও মামলার কারণে কিছুটা ধরিগতি হয়। তারপরেও অপরাধীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।