ঘাটাইলে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন
ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০৪:৪৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
ধার দেনা করে তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানে বুনেছিলেন কৃষক ওয়াহেদ আলী। আশা ছিল, এই ফসল থেকেই কেটে যাবে সারা বছর। কিন্তু ইটভাটার গ্যাসে তার সেই ধান পুড়ে গেছে। সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে তার স্বপ্নও।
শুধু ওয়াহেদ আলীর নয়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চানতারা গ্রামে তার মতো অনেক কৃষকের স্বপ্নই পুড়েছে ইটের ভাটা থেকে নির্গত ওই বিষাক্ত গ্যাসে। প্রায় ১০০ বিঘা জমির বোরো ধান ওই গ্যাসের প্রভাবে পুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রভাব ওই এলাকার সব ধরনের গাছের ওপরও পড়েছে। ঝরে পড়ছে গাছের কাঁচা পাতা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার একশ ২ জন কৃষক স্বাক্ষর করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
লিখিত আবেদন ও সরেজমিনে জানা যায়, এক চানতারা গ্রামেই গড়ে ওঠেছে ৯টি ইটের ভাটা। সবগুলোই দুই বা তিন ফসলি জমির ওপর। যে ধান গুলো পুড়ে গেছে তার পাশেই নূপুর বিক্স নামে একটি ইটের ভাটার অবস্থান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ইট পোড়ানোর কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ভাটার কিলিনে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেন। এর পর পরই এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। ওই বাতাস যে দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই অংশেরই ধানসহ গাছের পাতা পুড়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, তাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। বিষয়টি তারা ভাটার মালিকদের জানালে তারা কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ দেবেন না বলে তাদেরকে জানিয়েছেন। কৃষক জয়নাল আবেদিন বলেন, ব্রি-২৯ জাতের ওই ধান কিছু দিন পরই কাটা যেত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক ভাটার ইট পোড়ানো মিস্ত্রি বলেন, কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে কিলিনে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। সব ইট পোড়ানো যখন শেষ হয় তখন ওই গ্যাস তিন চার দিন পর ধীরে ধীরে ছেড়ে দিতে হয়। মনে হচ্ছে তারা এক সাথে ছেড়ে দিয়েছে।
নূপুর বিক্স এর মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দু’একজন মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি থাকলেও বেশির ভাগই একমত নন।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ইটের ভাটার গ্যাসে ধান পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে শুনেছি । তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।
উপজেলা চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, কৃষকের শেষ সম্বল এই ধান। করোনার কারণে এমনিতেই তারা অসহায়। মালিকপক্ষ তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে এটাই আশা করছি।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি । যদি ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কৃষকের ক্ষতি হয়ে থাকে তবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মালিকপক্ষকেও কৃষককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।