দুস্থদের চালের কার্ড চেয়ারম্যানের মাসহ পরিবারের ১৫ জনের নামে
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০ | ০১:২৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
নড়াইলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড চেয়ারম্যানের পরিবারের ১৫ জনের নামে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে চেয়ারম্যান ও এক ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যানের ভাইপোর ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, হবখালী ইউনিয়নে দুটি ডিলারের মাধ্যমে ৬১৮টি কার্ডের মাধ্যমে দুস্থ ও হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ করার কথা। এর মধ্যে ৩০৯টি কার্ডে চাল বিতরণ হয় চেয়ারম্যানের ভাইপো ডিলার মো. লিংকন রহমান এবং অপর ডিলার বাগডাঙ্গা বাজারে মো. জিন্নাহ মোল্যার এর মাধ্যমে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার হবখালী ইউপি চেয়ারম্যান ভান্ডারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম চঞ্চলের আপন ও সৎ মা ৩ জন, আপন দুই ভাই, বোন, ভগ্নিপতি, ভাইপো, চাচা, মামা, বেয়াইসহ ১৫ জনের নামে কার্ড রয়েছে। চেয়ারম্যানের মা রিজিয়া বেগম (কার্ড-৪১), নুরজাহান বেগম (কার্ড-৬২) ও রেকসোনা বেগম (কার্ড-৮০), মামা রবিউল ইসলাম (কার্ড-৮৫), বোন আইরিন (কার্ড-১০২), ভগ্নিপতি রওশন শেখ (কার্ড-১০৩), আপন ভাই কামরুজ্জামান (কার্ড-১১ ও ৬০) দুই জায়গায়, ঝন্নু (কার্ড-৪১৪), ভাইপো সৌরভ ও বৌমা সুমী, চেয়ারম্যানের বেয়াই হবখালী গ্রামের আ. ওয়াদুদ মোল্যা (কার্ড-১৯৪) ও তার স্ত্রী তানজিরা (কার্ড-১০১), মামাতো ভাই ইকবাল, জাহিদ ও আরেক ভাই নাইমের নামে রয়েেেছ ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব চালের কার্ড। এ ছাড়া ভান্ডারীপাড়া গ্রামের তামেশা বেগম, শিল্পী বেগমসহ পঞ্চাশোর্ধ কয়েক ব্যক্তির নাম এ কার্ডের তালিকায় রয়েছে, যারা ২ বছর পূর্বে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। একই গ্রামের কাজী তরিকুল ইসলাম বিদেশে থাকলেও তার নামেও রয়েছে কার্ড।
হবখালী ইউপি সচিব বিষ্ণুপদ সেন জানান, ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে ৯১টি কার্ড সংশোধনের জন্য বলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সেসব কার্ড সংশোধনের কাজ চলছে। চেয়ারম্যানের পরিবারে এতগুলো ব্যক্তির নামে কার্ড হওবার ব্যাপারে তিনি বলেন, এসব কার্ড ২০১৬ সালে দেওয়া হয়েছে। আর আমি এখানে ১১ মাস পূর্বে যোগদান করেছি।
এ ব্যাপারে হবখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম চঞ্চলকে মোবাইল করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, হবখালী ইউনিয়নের এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানার পর গত ২৭ এপ্রিল ডিলার মো. লিংকন রহমানের ২০ হাজার টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ডিলারশিপ বাতিল এবং অপর ডিলার মো. জিন্নাহ মোল্যাকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া এখানে দু’জন নতুন ডিলারকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নড়াইলে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, মাঠ পর্যায়ের অনেক কার্ড এর ভুলত্রুটি আমাদের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।