অ্যাসিড ছুড়ে পোশাক কর্মীকে হত্যার দায়ে সাবেক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. নাঈম মল্লিক। ছবি-সমকাল
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৬:২৫
মানিকগঞ্জে সাথী আক্তার নামে এক পোশাক কর্মীকে অ্যাসিড ছুড়ে হত্যার দায়ে সাবেক স্বামী মো. নাঈম মল্লিককে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন মানিকগঞ্জ অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
নিহত সাথী আক্তার (২৫) সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়নের কাটাখালী ফেরাজীপাড়ার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
আসামি নাঈম মল্লিক (৩২) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামের মৃত নিজাম মল্লিকের ছেলে।
আদালত ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাথী আক্তারকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন তার সাবেক স্বামী নাঈম। এতে সাথীর হাত-মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যাসিড আক্রান্ত হন সাথীর মা জালেখা বেগম ও ছোট বোন ইতি আক্তার। অ্যাসিড নিপেক্ষর পর রাতেই সাথী আক্তারসহ তার মা ও বোনকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
এর পর সাথীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এরপর ঘটনার ১২দিন পর ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাথী আক্তারের মৃত্যু হয়।
পরে এই ঘটনায় নিহতের মামা লাল মিয়া বাদী হয়ে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাটুরিয়ায় থানায় অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে নাঈম মল্লিককে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাটুরিয়া থানার তৎকালিন অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল আলম ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল নাঈম মল্লিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। বিচারক উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আসামির উপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেন।
রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মথুর নাথ সরকার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের জেরে ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর স্বামী নাঈম মল্লিককে তালাক দেন স্ত্রী সাথী আক্তার। এর পর তিনি সাটুরিয়ায় বাবার বাড়িতে থাকতেন এবং ঢাকার ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।
- বিষয় :
- অ্যাসিড নিক্ষেপ
- আদালত
- পোশাক শ্রমিক
- মৃত্যুদণ্ড
