ইয়ারজান পরিবারের পাশে প্রশাসন, নতুন ঘর দেওয়ার আশ্বাস
ইয়ারজানের বাড়ির জীর্ণ কক্ষ - সমকাল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪ | ২২:৩৪
নেপালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক পঞ্চগড়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইয়ারজান বেগম। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতের তিনটি শুট আউট ঠেকিয়ে ইয়ারজানই দেশকে শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছিলেন। অনন্য এই জয়ের নায়ক ইয়ারজানের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের খোপড়াবান্দি এলাকায়। একসময় দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হিসেবে ফুটবল খেলতে গিয়ে বহু মানুষের নিন্দামন্দ শুনতে হয়েছে ইয়ারজানকে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যেন পুরো পাল্টে গেছে। খোপড়াবান্দিতে ইয়ারজানের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তাঁর পারিবারিক অনটনের বিষয়টি বুঝতে পেরে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার ইয়ারজানের বাড়ি এবং জীর্ণ ঘর পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার এবং র্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে তার পরিবারকে। একইসঙ্গে আশ্বাস মিলেছে বাড়ির দুটি ঘরসহ স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন করে দেওয়ার।
গত সোমবার ইয়ারজানের পারিবারিক দৈন্যদশা এবং অনটন নিয়ে সমকালে ‘ফুটবলপ্রেমের আড়ালে মর্মস্পর্শী জীবনের গল্প’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ইয়ারজানের পারিবারিক অবস্থার চিত্র জেনে পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রীড়ামোদীর মধ্যে হইচই পড়ে যায়। গতকাল ইয়ারজানের বাড়িতে যান পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি কিশোরী ইয়ারজানের মা রেনু বেগমের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেন। একইসঙ্গে হাড়িভাসা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈয়েদ নুরে আলম সিদ্দিকীকে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরিবারটির পরিত্যক্ত রান্নাঘর ঠিক করতে এবং টয়লেট স্থাপনের।
একইদিন রংপুর র্যাব-১৩ অধিনায়ক কমান্ডার আরাফাত ইসলামও যান ইয়ারজানদের বাড়িতে। তিনি পরিবারটির হাতে নগদ ২০ হাজার টাকাসহ ইফতারি এবং খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন। র্যাব কমান্ডারও আশ্বাস দেন ইয়ারজানদের বাড়ির একটি শোবার ঘর তৈরি করে দেওয়ার। এছাড়া ইয়ারজানের পরিবার জানায়, একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের নগদ অর্থসহ বিভিন্নভাবে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইয়ারজানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইয়ারজানের জন্য স্থানীয়রা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে আমাদের দেখতে। সবাই সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন এবং ইয়ারজানের সাফল্যে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। আমি সোমবার রাতে একবার মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পেরেছিলাম। শুনেছি সে নাকি ঢাকায় খুব ব্যস্ত। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করছেন।’
হাড়িভাসা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈয়েদ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ইয়ারজানদের ঘর এবং টয়লেট করে দিতে কত খরচ হবে তার হিসাব চেয়েছেন। আমি বুধবারের মধ্যে একটি বাজেট দেব। আশা করি দ্রুত তাদের ভালো ঘর তৈরি করে দিতে পারব।’